“ঘৃণা ছড়ানো কথাও গু’লির মতো ভয়ঙ্কর…এই সময়টা খুব বিপজ্জনক” ভোট পরবর্তী বাংলায় একের পর এক রক্তা’ক্ত ঘটনা! চন্দ্রনাথ রথের হ’ত্যার পর ক্ষুব্ধ ঋদ্ধি সেন! দিলেন সংযমের বার্তা?  

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনার ছবি সামনে এসেছে। গণনা মিটে তিন দিন কেটে গেলেও থামেনি সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টা অভিযোগের খবর। কোথাও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের দাবি উঠেছে, কোথাও কর্মী-সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ মিলেছে। বিজেপি এবং তৃণমূল, দুই পক্ষেরই বহু কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ভোট শেষ হওয়ার পরে সাধারণ মানুষ যেখানে স্বাভাবিক পরিবেশ আশা করেছিলেন, সেখানে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই আবহেই সমাজমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। তিনি রাজনৈতিক উত্তেজনার বদলে সংযম, দায়িত্ববোধ এবং শান্তির পথে থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

অভিনেতার এই বক্তব্য দ্রুতই আলোচনায় উঠে এসেছে। গত বুধবার রাতের একটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। মধ্যমগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের। একই দিনে তিন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর খবরও সামনে আসে। ফলে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি রক্তপাত চলতে থাকে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই ঋদ্ধি সেন প্রকাশ্যে মত জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, এখন উত্তেজনা বাড়ানো নয়, শান্ত থাকা জরুরি।

ঋদ্ধি সেন নিজের বক্তব্যে লেখেন, “চন্দ্রনাথ রথের হত্যা ভয়াবহ। ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায় বার বার। অকারণ! এই হত্যার বিচার হোক অবিলম্বে।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের বলি বারবার সাধারণ মানুষই হন। এরপর তিনি আরও লেখেন, “এই সময়টা খুব কঠিন, বিপজ্জনক, রাজ্যের কাছে এখনও আইনি রাস্তায় হাঁটার উপায় আছে, কিন্তু সোশাল মিডিয়ার রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার বিসর্জন ঘটেছে বহু বছর আগেই।” অভিনেতার বক্তব্য, বাস্তব জীবনে আইন থাকলেও ডিজিটাল জগতে অনেক সময় দায়িত্বহীন আচরণ বেড়ে যায়। সেখানে অনেকেই সীমা না মেনে মন্তব্য করেন। সেই কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে তিনি মনে করেন।

সমাজমাধ্যমে ভাষার ব্যবহার নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। ঋদ্ধি সেন লেখেন, “এখানে আমাদের প্রয়োগ করা শব্দগুলো কাজ করে গুলির মতো।” অর্থাৎ একটি পোস্ট, মন্তব্য বা উস্কানিমূলক লেখা কখনও কখনও বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দিতে পারে। তাই তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, “তাই আপনাদের সকলকে একজন সহনাগরিক হিসেবে আমার অনুরোধ, এইসময়ে আমাদের একটাই দায়িত্ব, হিংসা আর ঘৃণায় ভরা নিজেদের অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশকে সংযত করা, দায়িত্বশীল হওয়া।” রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ভাষা ও আচরণে নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত বলেই তাঁর মত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য রাখা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।

শেষে আরও কড়া ভাষায় ঘৃণার রাজনীতির বিরোধিতা করেন অভিনেতা। তিনি লেখেন, “সোশাল মিডিয়ায় ঘৃণা উসকে দেওয়া কথা বুলেটের মতোই ভয়ঙ্কর। পরিস্থিতির সুস্থতা বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।” একই সঙ্গে তাঁর আবেদন, “ঘৃণার বার্তা ছড়াতে দেখলে প্রতিবাদ করুন। ফেসবুকে আদালত বসানো থেকে নিজেদের বিরত রাখুন। আইন ব্যবস্থাকে, প্রশাসনকে নিজের কাজ করতে দিন। প্রতিবাদের ভাষা হিংসার বিরুদ্ধে হোক, হিংসার পক্ষে নয়।” তাঁর এই বার্তা সমাজমাধ্যমে অনেকের সমর্থন পেয়েছে। ভোট পরবর্তী উত্তেজনার সময় একাংশ মানুষ এই বক্তব্যকে দায়িত্বশীল বলেও মনে করছেন।

RELATED Articles