যে কণ্ঠস্বর শ্রোতাদের মন ভালো করে, আমার জীবনেই ঝড়! দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মানসিক অব’সাদের সঙ্গে লড়াই! জন্মদিনেই কোন কথা প্রকাশ্যে আনলেন, গায়ক শানের স্ত্রী রাধিকা?

বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক শানকে সবাই চেনেন তাঁর গানের জন্য। বছরের পর বছর তাঁর কণ্ঠস্বর শ্রোতাদের মন ভালো করেছে। কিন্তু সেই পরিচিত হাসির আড়ালেই তাঁর পরিবারের মধ্যে চলছিল এক কঠিন সময়। সম্প্রতি নিজের জন্মদিনে স্ত্রী রাধিকা মুখোপাধ্যায় এমন এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন, যা অনেককেই অবাক করেছে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। তবে এই লড়াই শুধু ভেঙে পড়ার নয়, বরং ধীরে ধীরে নিজেকে আবার নতুনভাবে ফিরে পাওয়ার গল্পও। তাঁর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

গত ২১ মে ছিল রাধিকার জন্মদিন। সেই দিনেই অনুরাগীদের শুভেচ্ছার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি নিজের মনের কথা ভাগ করে নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “জন্মদিনের এত সুন্দর সুন্দর শুভেচ্ছা, ভালোবাসা এবং বার্তার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। তবে এই বছরটা আমার কাছে একটু অন্যরকম লাগছে। অনেক বেশি ব্যক্তিগত, সুন্দর এবং সম্পূর্ণ।” এরপরই তিনি জানান যে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অবসাদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর এই পোস্ট সামনে আসতেই অনেকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কারণ গ্ল্যামার জগতের মানুষেরাও যে এমন কঠিন মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, সেই বাস্তব ছবিটাই সামনে উঠে আসে।

রাধিকা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন যে, তিনি কখনও নিজের মানসিক অবস্থার সত্যিটা লুকিয়ে রাখতে চাননি। তাঁর কথায়, “আমি কখনও এই সত্যিটা লুকাইনি যে আমি গুরুতর অবসাদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি।” একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা মোটেও সহজ ছিল না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার সময় পরিবারের সমর্থনই তাঁকে সবচেয়ে বেশি শক্তি দিয়েছে। তিনি লেখেন, “পরিবারের অবিচল সমর্থন ছাড়া এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। তবে আমি কখনও বিশ্বাস হারাইনি যে সেরে ওঠা সম্ভব।” এই কঠিন সময়েই স্বামী শান তাঁর পাশে সবসময় থেকেছেন বলে জানান রাধিকা।

নিজের পোস্টে তিনি স্বামী শান ছাড়াও দুই সন্তান সোহম ও মাহি এবং বাবা-মায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গত এক বছর ধরে নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলার জন্য তিনি নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। সেই চেষ্টারই বড় সাফল্য হিসেবে সম্প্রতি তিনি ‘ইন্টিগ্রেটিভ কাউন্সেলিং থেরাপি’-তে একটি ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। রাধিকার কথায়, নিজের জন্মদিনে এর চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হতে পারে না। এখন তিনি নিজেকে আগের থেকে অনেক বেশি শান্ত, সুখী এবং আত্মবিশ্বাসী বলে অনুভব করছেন।

আরও পড়ুনঃ টলিউডে তোলপাড়! প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিতর্কে টলিপাড়ার জনপ্রিয় নায়িকা! প্রকাশ্যে এল গোপন ষ’ড়যন্ত্র?

তারকাদের জীবন মানেই সবসময় নিখুঁত সুখের ছবি, এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তবে রাধিকার এই অভিজ্ঞতা আবারও বুঝিয়ে দিল, মানসিক অবসাদ যে কারও জীবনে আসতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছাশক্তি এবং কাছের মানুষদের সমর্থন। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি অনেককেই সাহস জুগিয়েছেন বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা। বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও নতুন করে সামনে এসেছে। অন্ধকার সময় কাটিয়ে নতুনভাবে জীবনকে ফিরে পাওয়ার এই গল্প বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর