প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসুর কালজয়ী কাব্যনাটক ‘প্রথম পার্থ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মন জয় করেছে। এই নাটকটি বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিতভাবে পরিবেশিত হয়েছে এবং বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে বারোটি শো সম্পন্ন হয়েছে। এবার এটি প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে উপস্থাপিত হতে চলেছে। ২০১৩ সালে লন্ডনে নাটকটি প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়েছিল, আর ২০২৬ সালে এটি হবে দ্বিতীয়বারের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।
লন্ডন মহোৎসবের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাটকের পরিচালক অরিন্দম শীল, অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু, ভূমি ব্যান্ডের গায়ক সৌমিত্র রায় সহ আরও অনেকে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অঞ্জনা বসু জানান, “এখন আপাতত বিদেশের সরকারের কাছে যাচ্ছি। ফিরে এসে দেশীয় সরকার নিয়ে কথা বলব। আগে নিজের প্রত্যাশা পূরণ করে আসি। তারপর না হয় সকলের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলা যাবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানে তার ফোকাস মূলত বিদেশের প্রদর্শনীর প্রস্তুতি।
অঞ্জনার লন্ডন সফর খুবই সংক্ষিপ্ত। তিন দিনের এই সফরের ব্যপারে তিনি বলেন, “প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝে মাত্র তিন দিনের ছুটিতে লন্ডন যাচ্ছি। আগামী ২৭ মে যাচ্ছি, অনুষ্ঠান করে আবার ৩০ মে কলকাতা ফিরছি।” নাটকের পাশাপাশি এই সফরের মূল উদ্দেশ্য দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি পুরোপুরি উৎসাহ এবং উত্তেজনায় ছিলেন, যা তার নাট্যভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি অঞ্জনা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির তারকা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতে নিজের এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। ছোট পর্দায় ২০০৩ সালে ‘রবির আলো’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের পর তিনি একাধিক সফল কাজের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ যে কণ্ঠস্বর শ্রোতাদের মন ভালো করে, আমার জীবনেই ঝড়! দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মানসিক অব’সাদের সঙ্গে লড়াই! জন্মদিনেই কোন কথা প্রকাশ্যে আনলেন, গায়ক শানের স্ত্রী রাধিকা?
অঞ্জনার অভিনয় করা ধারাবাহিক যেমন ‘বিধির বিধান’, ‘বধূবরণ’, ‘বিজয়িনী’ ইত্যাদি বাংলা দর্শকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসিত হয়েছে। তার নাট্য এবং ধারাবাহিক অভিনয়ের কৃতিত্ব বাঙালির ড্রইং রুমে এখনো মনে রাখা হয়। লন্ডনের ‘প্রথম পার্থ’ উপস্থাপনা নিয়ে অঞ্জনার উত্তেজনা এবং সংযমী মন্তব্য দুই-ই যথাযথভাবে তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিচ্ছে।






