অলিম্পিক স্ট্যান্ডার্ড ডিগবাজি! তৃণমূলে ভাঙনের ঝড়, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ খোঁচা ঋত্বিকের, তথাকথিত তৃণমূলী তারকাদের ‘প্রণাম’ জানিয়ে কী কটাক্ষ অরিত্রর?

রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংকট। বিধানসভায় নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে দলের সমস্ত কমিটি ও সহযোগী সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস, যুব সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, সংখ্যালঘু সেলসহ বিভিন্ন শাখা কার্যত নতুন করে গঠনের পথে। ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। যদিও শুরু থেকেই দলীয় কর্মী ও নেতাদের উপর আস্থা রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে যে দলের ভেতরে অসন্তোষ অনেকটাই বেড়েছিল। কালীঘাটের বৈঠকে একাধিক বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও তখন বিষয়টির গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যায়নি। পরিস্থিতি বদলে যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা চিঠির স্বাক্ষর বিতর্ক সামনে আসার পর। সেই ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত হওয়ার পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা সক্রিয়ভাবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরিতে নামেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যেই বিদ্রোহী শিবিরকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। বুধবার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি জমা পড়ে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, দলের নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়ে ওঠে।

এই আবহেই অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে নজর কেড়েছেন। তিনি লিখেছেন, “গ্যাং-টা টুকরো টুকরো হয়ে গেলে কী নাম হবে? টুকরে টুকরে গ্যাং?” রাজনৈতিক বা সামাজিক নানা ইস্যুতে রসিকতার মোড়কে মন্তব্য করার জন্য তিনি আগেও আলোচনায় এসেছেন। বিজেপি নেতৃত্বের বাংলা উচ্চারণ বা রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও অতীতে তিনি খোঁচা দিয়েছেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর কিছুটা নীরব থাকলেও এবার তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘ডি কিউব’ মানে ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট! টলিপাড়াতেও চালু হচ্ছে এসআইআর! ফেডারেশন দাদাগিরি শেষে, এবার দায়িত্বে দিল্লির কনফেডারেশন, বড় ঘোষণা পাপিয়া অধিকারীর!

অন্যদিকে, টলিউডের কিছু তারকার রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়েও সরব হয়েছেন শিল্পী ও সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অরিত্র দত্ত বণিক। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “নেতারা যে ডিগবাজি খায় জানতাম, কিন্তু টালিগঞ্জের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ডিগবাজি অলিম্পিক স্ট্যান্ডার্ড। সরকারি পদ, মাইনে, পেনশন সব সুবিধা করে নিয়ে এখন মমতা-অভিষেকের ছায়া দেখলেও পালাচ্ছে, বিজেপির নেতাদের দেখলেই একগাল হাসছে। এদের আমার পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।” ঋত্বিক ও অরিত্রর এই মন্তব্য ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং নেটিজেনদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর