সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ছাত্র জয়ব্রত দাস পরিচালিত ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ সিনেমাটি ২০২৫ সালে তৈরি হয়। এই ছবি ২০২১ সাল থেকে ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্টের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে নির্মিত হচ্ছিল। কিন্তু মুক্তির আগে ছবিটিকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অবশেষে, ফেডারেশনের সব জটিলতা পার হয়ে ছবিটি হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হলে মুক্তি পায়। যদিও সীমিত হলেই প্রদর্শিত হয়, তবুও দর্শকদের মধ্যে এটি ভালোই গ্রহণযোগ্যতা পায়।
কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে, ছবিটি বড় পর্দায় মুক্তি পেতে পরিচালককে বড় অংকের অর্থ দিতে হয়েছিল। ছবির মুক্তির পেছনের এই খরচের খবর আগে জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি। সম্প্রতি স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের পর পরিবেশক শতদীপ সাহা এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি জানান, মুক্তির জন্য ১৩ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছিল। এই টাকা না দিলে ছবিটি বড় পর্দায় আসতেই পারত না।
শতদীপের কথায়, স্বরূপ বিশ্বাস এবং পিয়া চক্রবর্তী মিলিতভাবে ছবি মুক্তির জন্য অর্থ দাবি করেছিলেন। পরে, ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদের কথা ভেবেই সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়। শতদীপ আরও বলেন, “উনি বলেছিলেন পিয়া সেনগুপ্তর কাছে টাকা নিয়ে গেলে ছবি মুক্তির ব্যবস্থা হবে। এটা মিথ্যা নয়, আমার কাছে সমস্ত প্রমাণ আছে। প্রয়োজনে আমি দেখাতে পারি।” এই তথ্য প্রকাশের পর পিয়া নিজেই নিজের দায়ভার স্বরূপের হাতে তুলে দেন।
পরিবেশক শতদীপ সাহা আরও বলেন, সিনেমা শিল্পে সিন্ডিকেট কিভাবে চলছিল, তার উদাহরণ এই ঘটনার মধ্যেই দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ এবং ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ সিনেমার ডিসট্রিবিউটর ছিলেন তিনি। তবু ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ বড় পর্দায় মুক্তি পায়নি। অন্যদিকে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ মাত্র তিন দিন চলার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পরও হল মালিকদের ভয় দেখানো হয়।
আরও পড়ুনঃ
শতদীপের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সিনেমা শিল্পে কখনও কখনও বড় অর্থের বিনিময়ে ছবি মুক্তি পায়। শিক্ষানবিশ পরিচালক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেতে হলে অনেক সময় অবৈধভাবে টাকা খরচ করতেই হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতের অন্তর্দৃষ্টিও উঠে এসেছে। দর্শকরা এখন সহজেই বুঝতে পারছেন, বড় পর্দায় সিনেমা মুক্তির পেছনে কতোটা জটিলতা এবং সিন্ডিকেট কাজ করে।






