গত বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভের পর রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। টানা ১৫ বছর শাসন করার পর তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা শেষ হয়েছে। এর পর অনেকেই প্রাক্তন শাসক দলের নানা বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। টলিউডে শাসকদলের প্রভাব ও গুন্ডারাজের বিষয়টি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মত প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, টলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক ছিল।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করেছিলেন এবং জয় লাভ করেছিলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে অন্যরকম মনোভাব প্রকাশ করছেন। তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২০২৯ সালের পর হয়তো রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যদি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কখনও ডাকেন, তবে তিনি অবশ্যই উপস্থিত হবেন। রচনা বলেন, রাজনীতি মানে শুধু বিরোধিতা নয়, শাসক ও বিরোধী দল মিলেই রাজনীতি করা উচিত। তিনি বিশ্বাস করেন যে একদিকে সবকিছুতেই বিরোধিতা করা ভুল।
তিনি আরও বলেন, “একজন সংসদ হিসাবে যদি আমাকে মুখ্যমন্ত্রী ডেকে পাঠান, তাহলে অবশ্যই আমাকে সেখানে থাকতে হবে। সরকার কী বার্তা দিচ্ছে, সেটা জানতে হবে। আমায় তো কাজ করতে হবে।” রচনা বর্তমানে শাসকদলের সঙ্গে কোনো যোগযোগ শুরু করছেন না এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে সম্মানও জানাচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার শ্রদ্ধা অব্যাহত রয়েছে এবং দলের সাংসদ হিসেবে তিনি লজ্জা বোধ করেন না।
তবে রচনা মনে করেন, দলের ভেতরে নানা সমস্যা থাকার কারণে এবার ফলাফল ভালো হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, যতদিন সংসদে থাকবেন, নিজের কাজ করতে চান। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি মনে করেন যে তিনি রাজনীতিতে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছেন না অথবা সাহায্য পাচ্ছেন না, তাহলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন। এই মুহূর্তে তিনি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না। সংসদে থাকার সময়টাকে তিনি পুরোপুরি কাজে লাগাতে চান।
আরও পড়ুনঃ ফের চড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, সিলিন্ডার পিছু বাড়ল ২৯ টাকা! আন্তর্জাতিক সং*কটের জেরে কি আরও বাড়বে খরচ? চিন্তায় আমজনতা!
এদিকে, গত মঙ্গলবার চারু মার্কেট থানায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আরজিকর কাণ্ডের পর রচনা একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিওতে বারবার নির্যাতিতা তরুণীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে এক জন আইনজীবী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখন এই মামলার প্রেক্ষাপট রাজনীতিতে এবং অভিনেত্রীর অবস্থানে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।






