বলিউডের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি গায়িকা অলকা ইয়াগনিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই মানুষের কৌতূহল থাকে। দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়ে অনেক তথ্যই সাধারণের অজানা। ১৯৮৯ সালে তিনি ব্যবসায়ী নীরজ কাপুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নীরজ কাপুর মূলত শিলংয়ের বাসিন্দা এবং সেখান থেকেই তিনি নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন। বিয়ের পরও তাঁদের জীবনযাত্রা নিয়ে শুরু থেকেই আলাদা বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল। যদিও সম্পর্কের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই বলে জানা যায়। তবুও বহু বছর ধরে তাঁরা আলাদা শহরে বসবাস করছেন। এই বিষয়টি ঘিরে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অলকা ইয়াগনিক নিজের প্রেম ও সম্পর্কের শুরু নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি জানান, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাঁর কথায়, “নীরজের কাকিমা আমার মায়ের সহপাঠী ছিলেন। নীরজের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল তার বাড়িতে। আস্তে আস্তে আমাদের দুজনের মধ্যে কথোপকথন বাড়তে থাকে এবং আমরা একে অপরের প্রেমে পড়ে যাই। এরপর সারারাত ফোনে কথা বলা শুরু হয় এবং ফোনের বিল এলে মা এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন।” এইভাবে ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেই সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই পারিবারিক বাধা ছিল।
বিয়ের সময় অলকার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। মূল সমস্যা ছিল দূরত্ব এবং জীবনধারার পার্থক্য। অলকা তখন মুম্বইয়ে নিজের কেরিয়ারের শীর্ষে ছিলেন। অন্যদিকে নীরজ থাকতেন শিলংয়ে এবং সেখান থেকেই কাজ করতেন। পরিবার মনে করেছিল, দুই শহরে আলাদা করে থাকা অবস্থায় দাম্পত্য জীবন চালানো কঠিন হবে। তবুও দু’পক্ষের চাপ উপেক্ষা করে তাঁরা বিয়ে করেন ১৯৮৯ সালে। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল দু’জনই মাঝে মাঝে একে অপরের শহরে গিয়ে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
বিয়ের পর অলকার কেরিয়ার আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। সেই সময় একদিনের জন্যও মুম্বই ছেড়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এরপর ১৯৯০ সালে তাঁদের মেয়ে সায়শার জন্ম হয়। ঠিক তার পরের বছর ১৯৯১ সালে তাঁর গান “এক দো তিন” বড় হিট হয়ে যায়। এই সাফল্যের কারণে তাঁর কাজের চাপ আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “হঠাৎ করেই আমার কেরিয়ার এত দ্রুত এগিয়ে যায় যে মুম্বই থেকে একদিনের জন্যও দূরে যাওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।” এই পরিস্থিতিতেই দম্পতি আলাদা শহরে জীবন চালিয়ে যেতে থাকেন।
আরও পড়ুনঃ বিদেশের জনবহুল রাতের বাজারে হঠাৎ তোয়ালে পরে নাচ! ভারতীয় তরুণীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিত*র্ক, নেটদুনিয়া জুড়ে প্রশ্ন, সাহ*সী কনটেন্ট নাকি দেশের ভাবমূর্তিতে ধাক্কা?
দীর্ঘ সময় আলাদা থাকলেও তাঁদের সম্পর্কে কোনও দূরত্ব তৈরি হয়নি বলে জানান অলকা ইয়াগনিক। তিনি স্বীকার করেন, মাঝে মাঝে দেখা হলে আবার একে অপরকে বুঝে নিতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সম্পর্কের বন্ধন কখনও দুর্বল হয়নি। তাঁর স্বামী নীরজও অনেক সময় মজা করে বলেন, অলকার কেরিয়ারের কারণে তিনি ভাগ্যবান হলেও ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা দূরে থেকেছেন। তবুও পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিশ্বাসের উপর ভর করেই তাঁদের সম্পর্ক টিকে আছে। আজও আলাদা শহরে থেকেও তাঁরা নিজেদের দাম্পত্য বজায় রেখেছেন।






