ফলতার তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা যায়। পরে নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই তথ্য জানতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গ্রেফতারের পর জাহাঙ্গির খানকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, কোনও অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানো আইনসম্মত নয় এবং এতে মানবাধিকারের প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে।
আদালতে রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী জানান, দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নানা ধরনের ছবি বা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়ার পর রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে বিষয়টি জানানো হবে।
এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া চললেও তাঁর মানবাধিকার যেন কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সঙ্গে আইন অনুযায়ী আচরণ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফোনের ওপারে ‘বস’, নাকি প্রতারক? ‘Boss Scam’ নামের নতুন ফাঁদে মুহূর্তে খোয়া যেতে পারে আপনার সঞ্চয়, কী সতর্কবার্তা দিল রাজ্য পুলিশ? কীভাবেই বা টার্গেট করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে?
এদিকে জাহাঙ্গির খানের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করে থাকলে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু কাউকে অপমান করা, হেনস্থা করা বা প্রকাশ্যে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত থাকতে পারে। তাঁর মতে, অপরাধের বিচার এবং এই ধরনের আচরণের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই।






