‘বারুইপুরে এন*কাউন্টারকে স্বাগত, এবার কি কামদুনি-কালীগঞ্জের অ*পরাধীদের ক্ষেত্রেও একই পথ?’ মমতাকে কাঠগড়ায় তুলে বি*স্ফোরক দাবি নির্যাতিত পরিবারগুলির, নতুন বিত*র্ক বাংলাজুড়ে!

বারুইপুরে এক অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। একদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলছে মানবাধিকার মহল, অন্যদিকে বহু নির্যাতিত পরিবারের সদস্য এবং দীর্ঘদিন বিচার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া মানুষজন পুলিশের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনা থেকে শুরু করে কালীগঞ্জের তামান্না খাতুনের মৃত্যু একাধিক বহুল আলোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত মানুষজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি। বারুইপুরের ঘটনার পর সেই দাবিই যেন নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।

বারুইপুরকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর প্রথম প্রতিক্রিয়া দেন ২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার নির্যাতিতার ভাই। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মামলার কয়েকজন অভিযুক্ত এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাঁদের কাছ থেকে বারবার প্রাণনাশের হুমকিও পেতে হয়েছে। অতীতেও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বারুইপুরে পুলিশের যে ধরনের পদক্ষেপ দেখা গিয়েছে, একই রকম ব্যবস্থা কামদুনি মামলার বাইরে থাকা অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও নেওয়া উচিত। এমনকি যাঁরা জেলে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা গেলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা ভয় পাবে এবং এ ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমবে।

একই সুর শোনা যায় কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ মৌসুমী কয়ালের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বহু ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে গিয়েছে বলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরবে। আবেগপ্রবণ হয়ে মৌসুমী বলেন, তিনি চান না আর কোনও পরিবার তাঁদের মতো যন্ত্রণা ভোগ করুক। কামদুনি, আরজি কর-সহ নারী নির্যাতনের সমস্ত ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন, অভিযুক্তরা বাইরে থাকলে প্রতিবাদীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কামদুনির আর এক প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়ালও একইভাবে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় নৃশংস অপরাধের পরও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে দাবি করেন, অতীতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

আরও পড়ুন: “ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর নামে একটা কথা বলার আগে, জাতীয় পুরস্কার পেয়ে দেখান!” “উনি বু*ক দেখাবেন না, পে’ট…” পোশাক নিয়ে ঋতুপর্ণাকে কটা’ক্ষ, সরব কনীনিকা! ট্রো*লিংকে বললেন নিম্নরুচির পরিচয়?

বারুইপুরের ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কালীগঞ্জে নিহত ১০ বছরের তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিনও। তিনি বলেন, যারা নারী ও শিশুদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াই উচিত। তাঁর মতে, অপরাধীরা যখন বুঝবে যে ভয়াবহ অপরাধের পর কঠিন শাস্তি অনিবার্য, তখন অপরাধের সংখ্যাও কমবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়ায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপে তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলেও জানান। একই সঙ্গে নিজের মেয়ে তামান্নার মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা করেন আদালতের মাধ্যমে তাঁদের উপযুক্ত শাস্তিও নিশ্চিত হবে।

বারুইপুরে পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে এখন তীব্র আলোচনা চলছে। একদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ও আইনি প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে নির্যাতিত পরিবার এবং আন্দোলনকারীদের একাংশ মনে করছেন, কঠোর পদক্ষেপই ভবিষ্যতের অপরাধ রুখতে কার্যকর হতে পারে। কামদুনি, আরজি কর, কালীগঞ্জ কিংবা বারুইপুর প্রতিটি ঘটনাই বাংলায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সেই আবহেই বহু মানুষের বক্তব্যে উঠে এসেছে দ্রুত বিচার, নিশ্চিত শাস্তি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি। বারুইপুরের ঘটনার পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে, আর তার মধ্যেই বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে এই ইস্যুকে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

আরও অন্যান্য খবর