২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে ঘিরে এ বছরও রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রেখে ধর্মতলায় সভা করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনুমতি না মেলায় বিষয়টি এবার আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। লালবাজারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা এবং রাজ্যের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছে তৃণমূল। ফলে এ বছরের ২১ জুলাইয়ের মূল কর্মসূচি কোথায় হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। পৃথকভাবে আবেদন করে আদি তৃণমূল এবং নব তৃণমূল দুই পক্ষই। তবে প্রশাসনের তরফে কোনও পক্ষকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরই কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই থেকে সভার প্রস্তুতির কাজ শুরু করার অনুমতি এবং ২১ জুলাই নির্ধারিত কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হোক। একইসঙ্গে লালবাজারের জারি করা নোটিসের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মতলাতেই শহিদ দিবসের প্রধান কর্মসূচি হয়ে আসছে। শুধুমাত্র কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এসেছিল। ২০১১ সালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০১৩ সালে অন্য কারণে এবং কোভিড অতিমারির সময় ২০২০ ও ২০২১ সালে ধর্মতলায় কর্মসূচি হয়নি। সেই নজির তুলে ধরে দলের বক্তব্য, এতদিন যেখানে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান হয়েছে, সেখানে হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা জারির যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এই মামলায় তৃণমূলের জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক তথা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন আবেদনকারী হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ জুন লালবাজার যে নোটিস জারি করে ধর্মতলা এলাকায় সভা-মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেটি প্রত্যাহার করা হোক অথবা আদালত সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করুক। পাশাপাশি পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন গোয়েন্দা তথ্য বা নিরাপত্তাজনিত ইনপুটের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য আদালতে পেশ করা হোক। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ হাঁটুর ব্য’থার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পা হারালেন মহিলা! অভিষেকের বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়ে’ ঘিরে চাঞ্চ’ল্যকর অভিযোগ! ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর!
এদিকে আদালতের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিকল্প পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছে তৃণমূল। ধর্মতলায় অনুমতি না মেলার পর অন্য কোনও জায়গায় শহিদ দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার আলোচনায় সম্ভাব্য তিনটি বিকল্প স্থানের প্রস্তাব উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, আখরুজ্জামান, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। যদিও শেষ পর্যন্ত কোন স্থানে সভা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে একদিকে আদালতের রায়ের অপেক্ষা, অন্যদিকে বিকল্প পরিকল্পনা দুই পথেই এগোচ্ছে তৃণমূল। এখন সকলের নজর কলকাতা হাইকোর্টের আসন্ন শুনানির দিকে। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে এ বছরের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মূল কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং তার আয়োজনের স্থান।






