‘নেভারমাইন্ড’ মুক্তির পর থেকেই ছবিটিকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। মুক্তির আগে থেকেই ছবির প্রচার নিয়ে যেমন কৌতূহল ছিল, মুক্তির পর সেই আলোচনা আরও বেড়েছে। কখনও ছবির নায়িকার পোশাক নিয়ে কটাক্ষ হয়েছে, কখনও আবার পরিচালক চৈতি ঘোষালের ছেলে অমর্ত্য রায়কে ঘিরে নানা মন্তব্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি ছবির প্রচারের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিশেষ করে ইউটিউবার ঝিলম গুপ্তের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই দু’পক্ষের বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ঝিলম গুপ্ত জানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কোনওভাবেই অমর্ত্য রায়কে ছোট করা ছিল না। আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি নেতিবাচক অর্থে কিছু বলিনি। বিভিন্ন ছবির আলাদা আলাদা প্রচারের ধরন আমরা দেখেছি। কিন্তু এত কান্নাকাটি দেখে আমার মনে হয়েছিল, এটা কী ধরনের প্রচার?” তিনি আরও বলেন, যদি ধরে নেওয়া হয় যে শিল্পীদের আবেগ একেবারেই স্বাভাবিক ছিল, তাহলে সেই মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করার অনুমতি কেন দেওয়া হল, সেই প্রশ্ন তাঁর মনে এসেছে। ঝিলমের কথায়, তিনি ছবির মান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি, শুধুমাত্র প্রচারের ধরন নিয়েই নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রিমিয়ারে উপস্থিত অনেকেই চৈতি ঘোষাল ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ। তাই তাঁদের আবেগকে তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে একজন সাধারণ দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁর প্রশ্ন, “আমার মা-বাবাও আমার কাজ দেখে আবেগপ্রবণ হতে পারেন, কিন্তু তাতে কি দর্শক সিনেমা হলে যাবেন?” ঝিলম জানান, প্রথমে তাঁর ধারণা ছিল এটি অমর্ত্যের প্রথম ছবি। পরে তিনি জানতে পারেন, অভিনেতা এর আগেও বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি এতটা জলে পড়ে নেই যে, টাকা নিয়ে কুৎসা করতে হবে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রকাশ্যে দেখানো সেই আবেগের ভিডিও নিয়েই তিনি আপত্তি তুলেছিলেন এবং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার তাঁর রয়েছে। এমনকি তাঁর দাবি, সেই ভিডিও ছবির প্রচারেই সাহায্য করেছে।
অন্যদিকে অমর্ত্য রায়ও এই বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ছবির পোস্টার প্রকাশের দিন থেকেই তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শুধুমাত্র পরিচালক চৈতি ঘোষালের ছেলে বলেই তিনি এই ছবিতে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সেই ধারণা ঠিক নয় বলেই দাবি করেন অভিনেতা। তিনি জানান, এর আগেও তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার বাংলা ছবি ‘উড়নচণ্ডী’ এবং অজয় দেবগনের প্রযোজনা সংস্থার ‘ময়দান’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাই তাঁকে নতুন অভিনেতা হিসেবে দেখানো বা ভুল তথ্য ছড়ানো ঠিক নয় বলেই তিনি মনে করেন।
অমর্ত্যের বক্তব্য, যদি নেতিবাচক প্রচার সত্যিই ছবির দর্শক বাড়ায়, তাহলে তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বাস্তবে কেউ ছবি না দেখেই নানা মন্তব্য করছেন। তাঁর কথায়, “খারাপ কথা বলুন, কিন্তু সিনেমাটা দেখে বলুন, এটুকুই।” তিনি আরও বলেন, অনেকেই বাংলা সিনেমা না দেখেই দাবি করেন বাংলা ছবি চলছে না। সমাজমাধ্যমে কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যে কেউ যা খুশি বলছেন, আবার অনেকেই নিজের রিচ বাড়ানোর জন্য ভিডিও বানাচ্ছেন। অমর্ত্যের দাবি, তিনি চান মানুষ তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, অভিনয় দেখেই তাঁকে চিনুক। সেই কারণেই তিনি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং নিজের কাজ দিয়েই দর্শকের মন জয় করতে চান।
আরও পড়ুনঃ বিষাক্ত পোকার কামড়ে নয়, বরং নখের আঁ’চড় থেকেই আশ’ঙ্কাজনক অবস্থা! রাজেশ শর্মার অসু’স্থতার খবর শুনে উদ্বিগ্ন অক্ষয় কুমার, হৃদয় ছুঁয়ে গেল সহকর্মীর জন্য তাঁর বার্তা!
একইসঙ্গে অমর্ত্য রায় বলেন, শুধু তাঁকেই নয়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং পরিচালক চৈতি ঘোষালকেও নানা ধরনের কুরুচিকর মন্তব্যের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর মাকে নিয়ে হওয়া ব্যক্তিগত আক্রমণ তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয় সমাজমাধ্যম শক্তিশালী নারীদের সহ্য করতে পারে না।” তিনি আরও জানান, ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ছিল বলেই তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের আগের কাজের কথা জানাতে হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, দর্শক যদি ‘নেভারমাইন্ড’ ছবিটি দেখেন, তাহলে অনেকের বর্তমান ধারণা বদলে যেতে পারে। ফলে ছবির প্রচার কৌশলকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।






