দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর সরব হলেন জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছাত্রদের উপর এমন আচরণ কেন করা হচ্ছে এবং ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, পরিবর্তনই জীবনের একমাত্র চিরন্তন সত্য। তাঁর এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
অরিজিতের পোস্টের পর এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে গায়কের দীর্ঘদিনের অনুরাগী বলে দাবি করেন, প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি লেখেন, অরিজিতের এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁর প্রতি সব সম্মান হারিয়ে ফেলেছেন এবং এখন তাঁকে ঘৃণা করেন। সেই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকেই এই বিতর্কে নিজেদের মত প্রকাশ করতে শুরু করেন।
তবে এই সমালোচনার মুখে চুপ থাকেননি অরিজিৎ। তিনি শান্ত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় জবাব দেন যে, কেউ চাইলে তাঁর সব গান বা প্লেলিস্ট মুছে ফেলতে পারেন, এমনকি তাঁকে ভুলেও যেতে পারেন। কিন্তু তাতে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলাবে না। তাঁর এই উত্তরকে অনেকেই নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার বার্তা হিসেবে দেখছেন।
এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে অরিজিৎ প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর আন্দোলনের সময়ও তিনি তৎকালীন রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। তাই এবারও দিল্লির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন নয় বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বক্তব্য ঘিরে যেমন সমর্থন দেখা গিয়েছে, তেমনই বিরোধিতাও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ এক মুহূর্তেই নিভে গেল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ! মাত্র ১৮ বছরেই থেমে গেল জীবন, ম’র্মান্তিক পথদুর্ঘ’টনায় না ফেরার দেশে তরুণী অভিনেত্রী! শোকের ছায়া বিনোদন জগতে!
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্রদের আন্দোলন দ্বিতীয় মাসে পৌঁছেছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং একাধিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বৈঠক হলেও দাবিগুলির বিষয়ে এখনও কোনও আশ্বাস মেলেনি। সেই কারণে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।






