‘সনাতন ধর্ম এত সংকীর্ণ নয়’, বাঙালির আমিষ নিয়ে বাগেশ্বর বাবাকে উচিৎ জবাব মেখলার

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার এড়িয়ে নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন ‘বাগেশ্বর বাবা’ নামে পরিচিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাংলায় শুরু হয়েছে আলোচনা। এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন সঙ্গীতশিল্পী মেখলা দাশগুপ্ত। বাঙালি সংস্কৃতি এবং সনাতন ধর্মের বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে তিনি নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন।

মেখলার দাবি, সনাতন ধর্মকে কোনও একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আটকে দেখা ঠিক নয়। তাঁর মতে, এই ধর্মের পরিসর অনেক বড় এবং এখানে নানা ধরনের আচার ও বিশ্বাসের জায়গা রয়েছে। রজস্বলা দেবীর পুজো থেকে শুরু করে শিবের ত্যাগ, বিষ্ণুর সমৃদ্ধি, কালী ও লক্ষ্মীর ভিন্ন রূপ, সবই সনাতন ভাবনার অংশ। তাঁর বক্তব্য, উপবাস করে পুজো যেমন রয়েছে, তেমনই উচ্ছিষ্ট দিয়ে পুজো, মূর্তিপুজো এবং নিরাকার ব্রহ্মসাধনারও জায়গা রয়েছে।

বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার অভ্যাস নিয়েও বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য ও ট্রোলিং হয়। সেই প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন মেখলা। তাঁর বক্তব্য, বাঙালির খাবারের সংস্কৃতিকে আলাদা করে ছোট করে দেখার কোনও কারণ নেই। এই সংস্কৃতির মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ এবং কিশোর কুমারের মতো বহু কৃতী মানুষ বাংলার গর্ব হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিরামিষভোজীদের একাংশের কথাবার্তা নিয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মেখলা। তাঁর অভিযোগ, আমিষ খাবার নিয়ে অনেকেই বড় বড় কথা বললেও বাস্তবে তাঁদের আচরণে নানা ধরনের দ্বিচারিতা দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্যে তিনি গোমাংস বিদেশে রফতানি, দেশের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে চলে যাওয়া এবং বিলাসী জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অন্যকে মোহ-মায়া ছাড়ার পরামর্শ দেওয়ার আগে নিজেদের আচরণ দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “রেগো নাকি হেগো? আগে গান শেখো বাবু, তারপর নিজেই বুঝতে পারবে তোমার থেকে গান কত দূরে সরে ছিল!” “দাদুর মতো গলায় সোনার গয়না পড়ে নিলেই হয় না, দাদু যদি কাশ্মীরি উল হয়, নাতি হচ্ছে…” উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে বাপ্পি লাহিড়ীর নাতি রেগোর গান শুনে সমালোচনায় সরব নেটিজেনদের একাংশ!

সবশেষে বাঙালির ভালো-মন্দ দুই দিক নিয়েই নিজের মত জানান মেখলা। তাঁর মতে, সাধারণ বাঙালির মধ্যে নানা দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু এই সমাজ থেকেই যে কৃতী মানুষরা উঠে এসেছেন, তাঁদের অবদান অনেক বড়। সেই গুণগুলিই বাংলার পরিচয়কে আরও উজ্জ্বল করে। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে ঘিরে মেখলার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর