গতকালের হাতি মৃত্যুর ঘটনাকে নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা এমনকি ধর্মান্ধতাও দুঃখ প্রকাশ বিজয়ন-এর

কেরলে হাতির নির্মম হত্যার দৃশ্যে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। সরব হয়েছেন মানুষ। দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দেশব্যাপী উত্তেজনার জেরে এবার অপরাধীদের খোঁজ পেতে তদন্ত শুরু হয়েছে জানালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিন সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু হয়েছে। একগুচ্ছ ট্যুইটের মাধ্যমে বিজয়ন বলেছেন, পালাক্কাড়ে একটা ট্র্যাজিক ঘটনায় এক সন্তানসম্ভবা হাতি প্রাণ হারিয়েছে। আপনারা অনেকেই আমাদের এই ঘটনার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনাদের এই উদ্বেগ বিফলে যাবে না। দোষীরা শাস্তি পাবেই এবং রাজ্যে ন্যয় প্রতিষ্ঠিত হবেই।

https://twitter.com/vijayanpinarayi/status/1268489426637709312?s=20

তিনি আরও বলেছেন, ঘটনার তদন্ত করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছেন পুলিশ এবং বন দপ্তর। জেলার পুলিশ প্রধান ও বনকর্তা আজ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। অপরাধীদের বিচার করে শাস্তি দিতে যা যা করতে হবে, সব করা হবে। আমরা মানুষ ও বন্য জীবনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পিছনের কারণগুলি মোকাবিলার চেষ্টাও করব। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানীয় মানুষজন থেকে পশুপাখি সবার ওপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তবে আমরা এটা দেখে দুঃখ পেয়েছি, যে কেউ কেউ এই মর্মান্তিক ঘটনাকে অন্যরূপ দেওয়ার চেষ্টায় করছে।তারা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। কেউ কেউ তো আবার ঘটনার সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে এক নতুন জল্পনা তৈরি করছেন। বিজয়ন আরও বলেছেন, কেরল এমন এক সমাজ যেখানে অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ , প্রতিবাদকে সম্মান করা হয়। তাই এই পরিস্হিতিতেও এই ভয়াবহতার বিরুদ্ধে মানুষ আওয়াজ তুলেছে এবং যে কোনো প্রকার অপ্রতিভ ঘটনাকে রুখতে আওয়াজ তোলাটা আমাদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে। আমাদের সেই মানুষ হয়ে উঠতে হবে, যারা সর্বদা সব ধরনের অবিচার, বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করে।

https://twitter.com/vijayanpinarayi/status/1268489433377996800?s=20

গত ২৭ মে একটি গর্ভবতী হাতিকে বাজিভরা আনারস খেতে দেওয়া হয়। খাদ্যাভাব এবং মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের চলতে সে সেই অনার্স খেয়ে নেয়।এবং আচমকাই তার মুখের ভিতরে বিস্ফোরণ হয়। বন দপ্তরের কর্মীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরনের জেরে তার মুখের ভিতরটা মারাত্মকভাবে জখম হয়।নিজের যন্ত্রণাকে লাঘব দিতে সে ভেলিয়ার জলে তার মুখ ও শুঁড় ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই অবস্থাতেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। যে রাজ্যে শিক্ষিতের হার সর্বোচ্চ সেই রাজ্যে এমন নৃশংসতা দেখে বিস্মিত নানা মহল। এ থেকে একটাই প্রশ্ন উঠে আসে শিক্ষিত হলেই মানুষ হওয়া যায় কি?

RELATED Articles

Leave a Comment