অনুব্রত মণ্ডল এবং বেফাঁস মন্তব্য বোধহয় সমার্থক শব্দ। এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন তৃণমূলের বিশিষ্ট নেতা। এবারও তিনি তার বিতর্কিত মন্তব্যের ধারা বজায় রাখলেন। দেশে করোনা সংক্রমণের জন্য তিনি এবার সরাসরি দোষ চাপালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘাড়ে।
মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের কর্মী সম্মেলনে তিনি বললেন, “ভারতবর্ষে সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ করোনা আক্রান্ত। এর জন্য দায়ী কে বলুন তো? নরেন্দ্র মোদী। কারণ, নরেন্দ্র মোদী গুজরাতে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ সভাটা করে আমেরিকা থেকে সাড়ে তিন হাজার লোক নিয়ে এল। আর ওরা আমাদের দেশে করোনা ছড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে গেল। ওই লোকটার কোনও বুদ্ধিই নেই।” স্বাভাবিকভাবেই তার এই মন্তব্যে হতচকিত হয়ে যান উপস্থিত মানুষজন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
শুধু তাই নয় অনুব্রত দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে বাচক করে ইতিমধ্যে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল। প্রস্তুতির জন্য জেলায় জেলায় বুথ ভিত্তিক কর্মী সম্মেলন শুরু করেছে শাসক দল। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরির কৃষিমান্ডিতে ছিল সেরকমই এক বুথভিত্তিক কর্মী সম্মেলন। এখানেই তিনি অমিত শাহ কে আক্রমণ করেন তীব্র ভঙ্গিতে কিন্তু সেই আক্রমণে রয়ে যায় গাণিতিক ভুল।
অনুব্রতর কথায়, “একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে দেখলাম, অমিত শাহ বলেছেন, ৪৩ কোটি মানুষকে ৫২ কোটি টাকা দিয়েছি। কত বড় মূর্খ বলুন তো! ৪৩ কোটি মানুষকে ৫২ কোটি টাকা দিলে এক একজন মানুষ এক কোটির বেশি পায়। আবার বলেছেন, ২০ কোটি মহিলাকে ২০ কোটি টাকা দিয়েছি। তাহলে তো একজন মহিলা ১ কোটি করে টাকা পেতে হয়।” তাঁর আরও বক্তব্য, “অমিত শাহ বলেছেন, ৮ কোটি কৃষককে ১৬ কোটি টাকা দিয়েছে। তাহলে তো একজন কৃষক ২ কোটি করে টাকা পেতে হয়। ওরা মূর্খ, অশিক্ষিত মানুষ। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ কিছু জানে না।” তাঁর এই অদ্ভুত হিসাব শুনে কার্যত তৃণমূলের অনেক কর্মী স্তম্ভিত হয়ে যান। যদিও সে সময় কাউকে তাঁর ভুল ভাঙাতে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
এদিন অনুব্রত কেতুগ্রাম ২ ব্লকের ৯ টি পঞ্চায়েত এলাকার অঞ্চল নেতৃত্ব ও প্রধান উপপ্রধানদের নিয়ে কর্মী সম্মেলন করেন। দু’জন অঞ্চল নেতাকে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “দল কারও দুর্নীতির রেয়াত করবে না। দুর্নীতি করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






