চীন-ভারত যুদ্ধ বাঁধলে জিততে পারে কোন পক্ষ? ক্ষমতা ও শক্তির নিরিখে এগিয়ে কোন দেশ? দেখে নিন দুই দেশের শক্তির খাতিয়ান…

করোনা আবহেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত চীন সম্পর্ক। কিছুদিন যাবৎই লাদাখ সীমান্তে ছড়িয়েছিল উত্তেজনা। ক্রমে উত্তপ্ত হচ্ছিল পরিস্থিতি৷ সোমবার ভোররাতে যা চূড়ান্তে পৌঁছয়। অতর্কিতে চীনা হামলায় নিহত হন ২০জন ভারতীয় সেনা। আহত অনেকেই৷ কাঁটা লাগানো লোহার রড দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর আহত জওয়ানদের৷ মঙ্গলবার রাত থেকেই লাদাখের গালওয়ানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এলাকায় ভারত চীন সংঘাত চরমে পৌঁছয়৷ পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতও৷ চীনের ৪৩ জন সেনা ভারতীয় জবাবে নিহত এবং আহত হয়েছে বলে দাবি সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের৷

এর ফলে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হয়েছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি৷ এখানেই প্রশ্ন উঠছে, দুই পড়শী দেশে যদি যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে ক্ষমতা ও শক্তির নিরিখে কোন দেশ এগিয়ে থাকবে! দেখে নিন-

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন নানা দিক খতিয়ে দেখে, ভারত‌ই ফেভরিট! মার্কিন ওয়েবসাইট CNN-এর দাবি শেষবার যখন ভারত-চীন মুখোমুখি হয়েছিল, তখন থেকে বদলেছে পরিস্থিতি৷ ধীরে ধীরে অনেকটা শক্তি বাড়িয়ে ভারত৷ দুই দেশের ক্ষমতার মূল্যায়ন করলে ঠিক কী দাঁড়ায়, দেখে নেওয়া যাক—

পারমাণু শক্তি– বিশ্বের কোনও দেশই চায় না একে অপরের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে৷ ভারত ও চীনের ক্ষেত্রেও তাই৷ তবে জানিয়ে রাখা যাক যে, দুই দেশের হাতেই এই ক্ষমতা রয়েছে৷ ১৯৬৪-এ পারমাণবিক ক্ষমতাশীল দেশ হয় চীন৷ তার ঠিক ১০ বছর পর ভারত হয় পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।

-স্টকহোম ইন্টারন্যাশনল পিসের রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছর ভারতের হাতে আরও ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র এসেছে৷ -চিনের মোট ৩২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে তা ১৫০টি৷

সামরিক ক্ষমতা-

-চিনের ২৭০টি ফাইটার জেট রয়েছে৷ ভারতের মাটিতে হামলা চালানোর জন্য ৬৮টি এয়ারক্রাফট রয়েছে৷

-এই বছর মার্চে বেলফার রিপোর্টে প্রকাশিত খবর যে, চীনা সীমান্তে ভারতীয় এয়ারবেসের সংখ্যা বহু৷ যার থেকে সহজেই আক্রমণ চালানো যাবে৷

-চীনা বায়ুসেনার ৮টি এয়ারবেস রয়েছে সীমান্তে৷ কিন্তু এগুলি মূলত অসামরিক এয়ারফিল্ডে অবস্থিত৷ সেখান থেকে হামলা চালানো কিছুটা মুশকিল৷

-তিব্বত ও জিয়াংয়ং এয়ারবেস অনেকটা উঁচুতে৷ খারাপ আবহাওয়ার জন্য চীনা বিমান বেশি অস্ত্র নিয়ে উড়তে সক্ষম নয়৷

-বেলফার রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ভারতের মিরাজ ২০০০ বা সু ৩০ সব সময়, সব আবহাওয়ায় উড়তে সক্ষম৷ কিন্তু চীনের জেট জে ১০ সেটা পারে না৷

-সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে ভারত অনেকটা এগিয়ে৷ বলা হচ্ছে যে চীনের যুদ্ধের স্মৃতি বহু পুরোন৷ শেষবার ১৯৭৯-এ ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামিল হয়েছিল চীন যাতে তারা হেরে যায়৷ অন্যদিকে কাশ্মীরে প্রতিনিয়ত পাক সেনার বিরুদ্ধে লড়ে চলেছে ভারতীয় বাহিনী৷ কার্গিলের স্মৃতিও টাটকা৷ তাই অভিজ্ঞতার দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ভারত৷ পাকিস্তানের সঙ্গে অনুশীলনটা ভালোই চলে ভারতের।

-তিব্বত ও LAC-তে ভারতের বাহিনীর সংখ্যা প্রায় ২২৫০০০৷ অন্যদিকে চিনে ক্ষেত্রে সেটা ২০০০০০ থেকে ২৩০০০০৷ এই সংখ্যাটা খুব সহজে বাড়িয়ে ফেলতে পারে চীন৷ কিন্তু খারাপ রাস্তার ফলে খুব সহজে চীন এই কাজটা করতে পারবে না৷ এমনকি অবস্থানগত সুবিধার জন্য তিব্বত সংলগ্ন রেলপথ‌ও উড়িয়ে দিতে পারে ভারত, যার ফলে খুবই সমস্যায় পড়তে পারে প্রতিবেশী দেশ।

আরও অন্যান্য খবর