গত ৩রা জুলাই উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের কানপুরে ৮ জন পুলিশকর্মীকে নির্দ্বিধায় খুন করেছিল বিকাশ দুবে। এরপর থেকেই পুলিশের প্রায় ৪০টি দল হন্যে হয়ে তার খোঁজে নামে। পুলিশকর্মীদের হত্যার মূল কান্ডারী বিকাশের মাথার দাম আগে ছিল আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু পুলিসকর্মীদের নৃশংসভাবে হত্যার পর তার দাম দ্বিগুণ করা হয়েছিল। যাতে তাড়াতাড়ি তাকে হেফাজতে নেওয়া যায়।
গতকাল ঠিক ৮ দিনের মাথায় মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় মোস্ট ওয়ান্টেড বিকাশ দুবে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৬০টিরও অধিক মামলা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের তালিকার শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে ছুঁতেও পারেনি। এমনকী এক সময়ে পুলিশ বিকাশের সমস্ত অপরাধ নীরব দর্শকের মতো দেখে গেছে।
তার অন্যতম কারণ হল জাতপাতের রাজনীতি। অর্থাৎ উচ্চ বর্ণের মানুষরা দলিতদের দমিয়ে রাখে। সেক্ষেত্রে বিকাশ দুবে জাতে ব্রাহ্মণ। তাই এসপি, বিএসপি উত্তরপ্রদেশে যখনই কেউ ক্ষমতায় এসেছে, তখনই নিজের সুবিধে অনুসারে রং বদল করেছে বিকাশ। তার ‘রাজনৈতিক গুরু’ হরিকৃষ্ণ শ্রীবাস্তব বিজেপি ছেড়ে বিএসপি-তে যোগ দিলে সে-ও দল বদলেছে। কিন্তু মজার বিষয় ক্ষমতালোভীরা সবাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিকাশকে গুরুত্ব ও আশ্রয় দিয়েছে।
তাই পুলিশ তার অন্যায় দেখেও না দেখার ভান করেছে। এই কারণেই বিজেপি নেতা সন্তোষ শুক্লা-কে ২৫ জন পুলিশ কর্মীর উপস্থিতিতে হত্যা করেও উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায় সে। তবে ২০০০ সালে তারাচাঁদ ইন্টার কলেজের জমি দখল করে বাজার তৈরি করা নিয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ সিদ্ধেশ্বর পাণ্ডেকে খুন করে বিকাশ। এই একটিমাত্র খুনেই দোষী সাব্যস্ত হয়ে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। কিন্তু তাতেও সে হাইকোর্টে পরে জামিন পেয়ে যায়।
১৫ বছর নিজের গ্রামের সরপঞ্চ থেকেছে এই বিকাশ। তার পরে পাঁচ বছর জেলা পরিষদ সদস্য থেকেছে । এখন তার স্ত্রী রিচা জেলা পরিষদ সদস্য। রিচা এসপি-র আজীবন সদস্যপদ নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কানপুরে প্রচলিত আছে, বিকাশ বা তার স্ত্রীকে কোনও দিন ভোটের প্রচারে যেতে হয়নি। কেবল এক ইশারাতেই ভোট পরে তাদের নামে। জানা গেছে ২০২২-এর বিধানসভা ভোটেরও প্রস্তুতি শুরু করেছিল সে।
প্রসঙ্গত, তাঁর মা আগেই জানিয়েছিলেন – ছেলের এনকাউন্টার করে দেওয়া হোক।





