উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলায় তার পরিবার ও বিজেপি কর্মীরা শুরু থেকে অভিযোগ করে আসছিলেন যে দেবেন্দ্র বাবুকে খুন করা হয়েছে কিন্তু পুলিশ বারংবার বলছিল যে এটা আত্মহত্যার ঘটনা কারণ দেবেন্দ্রকে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নে স্বরাষ্ট্র সচিব ও একই কথা বলেছিলেন যে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান এটা আত্মহত্যা। কিন্তু বুধবার দেবেন্দ্র বাবুর পরিবারও বিজেপির দাবির পথের তদন্ত শুরু করল সিআইডি। এবং সিআইডির চাপের মুখে ৩০২ ধারা তে খুনের মামলা রুজু করতে বাধ্য হল পুলিশ। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে প্রথম থেকে কেন আত্মহত্যা প্রমাণে আত্মহারা হয়ে উঠলেন পদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা?
বুধবার নিলয় সিং নামে একজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। আদালতে পেশ করে তাঁকে ১০ দিনের হেফাজতে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। পুলিশের দাবি দেবেন্দ্রনাথ বাবুর পকেটের সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে সেখানে তার নাম রয়েছে। এর পর জানা যায় ধৃত নিলয় ও অপর অভিযুক্ত মাসুদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বিধায়কের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগেও তাঁদের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু নিলয় সিং দাবি করেছেন যে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এখন বেশ কিছু পরস্পরবিরোধী প্রশ্ন উঠে আসছে যেমন দেবেন্দ্রনাথ বাবু খুন হয়ে থাকলে তার পকেটে সুইসাইড-নোট এল কী করে? আবার যদি ধরা যায়, যারা খুন করেছে তাহলে তারা নিজেদের নাম লিখে সুইসাইড-নোট পকেটে ভরে দেবে? কিন্তু আত্মহত্যা করলে দেবেন্দ্রনাথ বাবুর হাত ওইরকম ভাবে কী করে বাঁধা থাকে? তাহলে কি বিজেপির দাবিই সত্যি, পুলিশই দেবেনবাবুর পকেটে সুইসাইড নোট ঢুকিয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে সিআইডির তদন্তে।





