হাঁসের মাংসই মানুষকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে। আর এই বিশ্বাসেই পুরুলিয়ার মানুষ মনসা দেবীর নৈবেদ্য হিসেবে দু’দিনে কিনে ফেললেন দশ লক্ষ টাকারও বেশি হাঁস। যার জেরে অনেকদিন বাদে লাভের মুখ দেখেছেন বিক্রেতারা।
পুরুলিয়ার অন্যতম প্রধান উৎসব হল মনসা পুজো। চাষ শেষে সেখানে মানুষ পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন। আর মা মনসার আরাধনায় হাঁস বলি দিয়ে থাকেন। কারণ হাঁসই মা মনসার প্রধান নৈবেদ্য। তবে করোনার জেরে এই হাঁস বলির সংখ্যাটা অনেকটাই বেড়ে গেল এবছর। পুরুলিয়া শহরে করোনার প্রাদুর্ভাবের চলতে বিক্রেতারা এবছর মনসা পুজো সত্ত্বেও সেদিকে পা বাড়াননি। কিন্তু মায়ের সকল ভক্তের বিশ্বাস হাঁসই দূর করতে পারবে করোনাকে। সেই কারণে মা মনসার চরণে হাঁস বলি দিতে তৎপর সেখানকার মানুষ। কেউ কেউ আবার আগে থেকেই হাঁস কিনে রেখেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দু’দিনে দশ লক্ষ টাকার বেশি হাঁস বিক্রি হয়েছে পুরুলিয়ায়। যার চলতে এই পুজোর সময় মুখে হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদের। তবে পুজো আয়োজকরা কিন্তু এই ঘটনায় বেশ হতবাক।
এ প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির দাবি, হাঁসই হল মা মনসার প্রধান নৈবেদ্য। তাই মনসা পুজো হবে আর হাঁস বিক্রি হবে না এটা হয় না। গত দু’দিনে এই জেলায় দশ লক্ষের বেশি টাকার হাঁস বিক্রি হয়েছে। লোকসংস্কৃতি গবেষকরা আরও বলেছেন, আগে কয়েকটি জনজাতির মধ্যেই মনসা পুজো প্রচলিত ছিল। কিন্তু এখন এই জেলার প্রায় সকলেই দেবীর আরাধনা করে থাকেন। তবে এবার মহামারীর পরিস্থিতিতে হাঁস বলি দেওয়ার ধূমটা একটু বেশিই। তবে বাজারে ভিড় হলেও মণ্ডপগুলিতে করোনা মোকাবিলার সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল।





