আগামী ২৩শে অগাস্ট, ২০২০, ৫ বছরের পথচলাকে সাফল্যের সঙ্গে পূর্ণ করতে চলেছে বন্ধন ব্যাঙ্ক (Bandhan Bank)। এটি দেশের কনিষ্ঠতম সার্বজনীন ব্যাঙ্ক যার লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করা। যেখানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছায়নি সেখানেও মানুষকে ব্যাংকের কাছাকাছি নিয়ে আসা। এই ব্যাঙ্ক স্বাধীন ভারতে গড়ে ওঠা এমন একটি ব্যাংক যা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এখন এই ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ২০.৩১ মিলিয়ন এবং এই ব্যাংকের সম্পদ ১.৩৪ লক্ষ কোটি টাকা।
এই ব্যাঙ্কের শাখা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। এখনো অবধি ৩৪ টি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ৪৫৫৯ গুলি আউটলেট ও ৪৮৫ টি এটিএম রয়েছে বন্ধন ব্যাঙ্কের। ২০১৫ সালের জুন মাসে বন্ধন গ্রুপকে সার্বজনীন ব্যাঙ্ক গড়ে তোলার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তারপর থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তাদের শাখা। এমনকি যেসমস্ত গ্রামীন বা শহরতলী এলাকায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা একসময় পাওয়া যেত না সেখানেও পৌঁছায় এই ব্যাঙ্ক। উল্লেখ্য ৭১ শতাংশ ব্যাঙ্কিং আউটলেট এই ধরনের অঞ্চলেই রয়েছে।
অবশ্য ২০১৫ র আগেও বন্ধন গ্রুপ মানুষের জন্য নিরন্তর কাজ করেছে। দেশের গ্রাম ও শহরতলি এলাকায় অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল মানুষকে সহজে ও অল্প সময়ে ক্ষুদ্র ঋণের পরিষেবা দিয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করেছে এই প্রতিষ্ঠান। এমনকি কড়া সুদে ব্যবসা করা মহাজনদের হাত থেকেও তাদের মুক্ত করেছে।
সার্বজনীন ব্যাঙ্কিং লাইসেন্স পাওয়ার ফলে এই প্রতিষ্ঠান একটি মজবুত রিটেল ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করতে পেরেছে। এখন এই ব্যাঙ্কের কাসা (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট সেভিংস অ্যাকাউন্ট) অনুপাত ৩৭ শতাংশ, মোট আমানতের ৭৭ শতাংশ হল রিটেল ব্যবসা। এর জন্য একদিকে গ্রাহকদের মধ্যে যেমন সঞ্চয় প্রবণতা গড়ে উঠেছে, তেমনই ব্যাঙ্কও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে পেরেছে।
বন্ধন ব্যাংকের সমগ্র পোর্টফোলিওর ৬৪ শতাংশই জুড়ে রয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প। তবে এছাড়াও নতুন পরিষেবা নিয়ে এসেছে বন্ধন, যেমন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের (এমএসএমই) জন্য ঋণ, গোল্ড লোন এবং স্বল্পসুদে গৃহঋণ (২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে গ্রুহ ফিনান্স বন্ধনের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। এর মাধ্যমেই গৃহ ঋণ দেওয়া হচ্ছে)।
বন্ধন ব্যাঙ্ক শুধু ঋণ প্রদানের মাধ্যমেই মানুষের ক্ষমতায়নে সাহায্য করেছে তা কিন্তু নয় বরং নিজেও অনেক মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। এই পাঁচ বছরে বন্ধনের কর্মী সংখ্যা ১৩ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪২ হাজার। প্রত্যক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পরোক্ষেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে বন্ধন। বন্ধনের ১.১২ কোটি ক্ষুদ্র ঋণ গ্রাহক অন্তত একজন করে কর্মী নিয়োগ করেছে ধরে নিলে, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারা শুধু তাঁদের জীবিকা সুনিশ্চিত করেননি আরও ১.১২ কোটি মানুষের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দিয়েছে।
বন্ধন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করে ভাল আপনার, ভাল সবার। আর গত পাঁচ বছরে এই সার্বজনীন ব্যাঙ্ক তাই করে দেখিয়েছে। আজ যখন বন্ধন ব্যাঙ্ক আগামীর পথে যাত্রা করছে, এটি ব্যাংকের মূল চালিকাশক্তি গুলির উপর ভর করে আরো বৃহত্তর লক্ষ্যের জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে।
এই বিষয়ে বন্ধন ব্যাঙ্কের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর চন্দ্রশেখর ঘোষ বলেন, “গত পাঁচ বছরে বন্ধন ব্যাঙ্ক লক্ষ লক্ষ মানুষকে আত্মনির্ভর করে তুলেছে। স্বল্প উদ্যোগ নিয়ে তাঁরা নিজেদের স্বপ্নপূরণ করেছেন। যাঁরা আগে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পেতেন না তাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে তাঁরা স্বাধীনতা পেয়েছেন অন্যদিকে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন। বন্ধনের সমস্ত গ্রাহককে তাই আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাঁরা শুধু ঋণ নেওয়ার জন্য আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন তা নয়, সারা জীবনের সঞ্চয় ও পুঁজিও আমাদের কাছে রেখেছেন”।
তবে শুধু ঋণ দেওয়া নেওয়া অবধি এই ব্যাংক কাজ করে না বরং মানবসম্পদের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ব্যাঙ্কের সিএসআর এজেন্সি বন্ধন-কোন্নগরের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এরকম গোটা দেশের ১২ টি রাজ্যের ১২, ৯০০টি গ্রামের ২৫ লক্ষের বেশি মানুষ এই সব উদ্যোগের সুবিধা পেয়েছেন।
এবার দেখা যাক ব্যাঙ্কের বৃদ্ধির সূচক:
• এই ব্যাংকের ওপর ভরসা করে মোট ২.০৩ কোটি গ্রাহক এই ব্যাংকের পরিষেবা গ্রহণ করেছেন । যার ফলে বন্ধনের মোট আমানত: ₹৬০,৬১০ কোটি টাকা এবং প্রদত্ত ঋণ: ₹৭৪,৩৩১ কোটি
• মজবুত রিটেল ব্যবসা: কাসা অনুপাত ৩৭%, মোট আমানতের মধ্যে রিটেলের পরিমান ৭৭.৭%
• খরচ ও আয়ের অনুপাত খুবই লাভজনক: ২৭.৯%
• বিগত ৫ বছরে ডিমনিটাইজেশন, সাইক্লোন ও বন্যা সত্ত্বেও ব্যাংকের অ্যাসেট এর গুণগত মান সমান ভাবে বজায় রাখা হয়েছে। মোট এনপিএ ১.৪৩% এবং নেট এনপিএ ০.৪৮%
• ব্যাংকের মোট শাখার মধ্যে প্রায় ৭১% আধা শহর ও গ্রামীণ মানুষদের জন্য খোলা হয়েছে।
• এছাড়া ৫ বছরে ৪২ হাজার কর্মী সেখানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।





