দমবন্ধ লাগছে? চলে আসুন ঘন বনানীতে ঢাকা এই রিসোর্টে

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে ঘরবন্দী আমরা সকলেই। কিন্তু বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে! ভ্রমণপিপাসু বাঙালিকে বাইরে ঘুরে বেড়াবার টান থেকে আটকানো বড় দায়। তাই এই কঠিন পরিস্থিতিতেও বাঙালি বেরিয়ে পড়ছে ভ্রমণে। অবশ্যই সমস্ত রকম সুরক্ষা বিধি মেনেই বাঙালি ঘুরতে যাচ্ছে। কিন্তু কলকাতা থেকে কাছেপিঠে কোথায় ঘোরা যায়? যেখানে ঘুরতে বেড়ানোর মজাও পাওয়া যাবে আবার ভোজন রসিক বাঙালির পেটও ভরবে? আপনাদের জন্য ‘খবর ২৪×৭’ এর পক্ষ থেকে রইল এরকমই একটা সাধ্যের মধ্যেই খানিকটা জানা আবার অনেকটা অচেনা জায়গার সন্ধান!

bonolota journey(১/৬) কলকাতা থেকে গাড়িতে স্টেট হাইওয়ে ২ ধরে সাড়ে চার ঘন্টার রাস্তা পেরোলেই পৌঁছাবেন বাঁকুড়ার এই সবুজ বনানীতে যার পোশাকি নাম জয়পুর ফরেস্ট (Joypur Forest)। এই জায়গা পরিচিত জঙ্গলমহল নামেও তবে মাওবাদীদের উপস্থিতি এইখানে নেই।

 

bonolota resort

(২/৬) এইখানেই রয়েছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি রিসোর্ট অ্যান্ড হোটেল। যার নাম রিসোর্ট বনলতা (Resort Banalata)। বিগত বেশ কিছু বছরে এই জায়গাটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। রিসোর্ট এর ভেতরে কৃত্রিম গ্রাম্য পরিবেশে এক-দু’রাত পরিবারের সঙ্গে থাকাই যায়। রয়েছে ডিলাক্স থেকে কটেজ রুমের মত বিভিন্ন রুমের সমাহার। বুকিং শুরু হচ্ছে রাত প্রতি ৩০০০টাকা থেকে।

bonolota food

(৩/৬) এই রিসোর্টের বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে যা কিছু খাবার জিনিস পাওয়া যায় তার কাঁচামাল এই রিসোর্টের ভেতরেই উৎপাদিত হয়। হাঁস, মুরগি থেকে শুরু করে এমু, কোয়েল, টার্কি সমস্ত পাখির চাষ হয় এই রিসোর্টের ভেতর। এখানে মানুষ যারা খেতে আসেন তারা সকলেই বনমুরগী, এমু, কোয়েল, টার্কি, দোয়েল প্রভৃতি পাখির মাংস একবার চেখে দেখেন। এছাড়াও ভেতরে সমস্ত ধরনের শাকসবজি চাষ করা হয়। যদিও লজিং ও ফুড কিন্তু আলাদা।

 

bonolota resort entrance

(৪/৬) এছাড়াও বনলতার পক্ষ থেকে জঙ্গল সাফারি এবং মন্দির দর্শন এর সুব্যবস্থা রয়েছে। কাছেই রয়েছে বিষ্ণুপুর (Bishnupur)। সেখানেও অনেক বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তাই চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বনলতা থেকে।

piardoba airfield(৫/৬) যারা ইতিহাস ভালবাসেন তাদের জন্য রয়েছে বিশাল চমক! অধিকাংশ মানুষই এখানকার একটি সিক্রেট জায়গা সম্বন্ধে জানেন না। বনলতা রিসোর্ট থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে একটি চার মাথার মোড় থেকে বাঁদিকে বেঁকলেই মিলবে এক ঐতিহাসিক সম্পদ! এই স্থানটির নাম খাতায়-কলমে পিয়ারডোবা এয়ারফিল্ড। বিশাল এলাকাজুড়ে এটি একটি বিমানবন্দর ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কালে। কালের নিয়মে রয়ে গিয়েছে বাঁধাই করা রানওয়ে, জন্মেছে জঙ্গল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল এই বিমানবন্দর।

 

piardoba airfield watch tower

(৬/৬) পিয়ারডোবা এয়ারফিল্ডের বাঁ দিকে রয়েছে সারি সারি ইউক্যালিপটাস গাছ। ডান দিকে রয়েছে গভীর জঙ্গল। সেখানেই একটু খুঁজতেই মিলল এই ভগ্নপ্রায় ওয়াচ টাওয়ার। এলাকাজুড়ে প্রাচীন ইতিহাসের গন্ধ সেইসঙ্গে বন্য পরিবেশ আপনাকে রোমাঞ্চের জগতে এনে ফেলবেই। স্থানীয় মানুষরা এই জায়গাটিকে চাতাল নামে চেনেন।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে বনলতা রিসোর্টে ভিড় একটু কম। তবে উপযুক্ত সুরক্ষা বিধি কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। তাই লকডাউনের এই দমবন্ধ করা অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এক-দু’দিনের জন্য চলে আসতে পারেন লালমাটি আর জঙ্গলের এই দেশে। বুকিং এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন রিসোর্ট এর ওয়েবসাইটে।

RELATED Articles

Leave a Comment