পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে পাওয়া জমি রাজ্যকে ফিরিয়ে দিয়ে জল্পনার জন্ম দিলেন প্রিন্স অফ ক্যালকাটা! গত জুলাইয়ের শুরুতেই হঠাৎই রাজ্যের মুখ্য কার্যালয় নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মহারাজ। সেই সময় থেকেই শুরু হয় জল্পনা। কারণ ২১ শের যুদ্ধের বেশি দেরি যে আর নেই। একই সঙ্গে হঠাৎ এমন সাক্ষাতের প্রকৃত কারণও জানা যায়নি। ফলে নেটপাড়ায় শুরু বিস্তর জল্পনা। রাজ্যের ক্রীড়ামহল তো বটেই, এমনকি গুঞ্জন ওঠে রাজনৈতিক মহলেও।
জল্পনার আগুনে ঘিয়ের কাজ করেন সৌরভ পত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। মহারাজের জন্মদিনে আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সৌরভের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি। বরং দাবি করেছিলেন যে, দাদা যদি রাজনীতির আঙিনায় পা দেন, তবে সেটা শীর্ষ পৌঁছনোর জন্যই দেবেন।
কিন্তু অবশেষে ঘটল জল্পনার অবসান। জানা গেল মহারাজের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আসল কারণ। সৌরভ গাঙ্গুলি নবান্নে গিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের থেকে স্কুল তৈরির জন্য পাওয়া জমি ফিরিয়ে দিতে।
নিউটাউনে আইসিএসই বোর্ডের অনুমোদিত একটি স্কুল গড়ার জন্য তৃণমূল সরকারের কাছ থেকে ২ একর জমি পেয়েছিলেন সৌরভ। জমিটি নিয়ে মামলার মুখে পড়তে হয় সৌরভকে। সেকারণেই তিনি জমি রাজ্য সরকারকে ফিরিয়ে দিলেন বলে খবর। সৌরভ বা রাজ্য সরকার, কোনও তরফেই অবশ্য মুখ খোলা হয়নি এই বিষয়ে। তবে সৌরভের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে যে, জমি ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত বষয় নিয়েই সৌরভ গত মাসে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
অতীতে বাম আমলেও সরকারের কাছ থেকে জমি পেয়ে মামলার জন্য তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কারণ ঝামেলায় জড়াতে মহারাজ নারাজ। যদিও এবার জমি ফেরানোর ঘটনাতেও রাজনীতির রং লাগাতে চাইছেন কেউ কেউ। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক ভালো হওয়ায় বিশেষ করে রাজ্যের বিরোধী শিবির থেকে আওয়াজ উঠতে শুরু করেছে যে, এর পিছনে রাজনীতির খেলা থাকতেও পারে। কেননা, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌরভের গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলে আসেছে দীর্ঘদিন যাবত।





