মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে হাথরাসের (Hathras) নির্যাতিতা তরুণী নিজে পুলিশকে জানিয়েছিলেন তিনি ধর্ষিতা। চারজন উচ্চবর্ণের হিন্দু ধর্ষণ করেছে তাকে। যোগীর (Yogi adityanath) রাজ্যে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনা সর্বসম্মুখে আসতেই তোলপাড় পড়ে যায় দেশজুড়ে। বিরোধীদলের নেতা নেত্রী থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম হাথরাসের প্রত্যন্ত গ্রামে ভিড় জমে সকলেরই।
এই ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে যোগীর পুলিশ-প্রশাসনের একের পর এক কর্মকাণ্ড দেশবাসীর কাছে চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়েই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ দাবি করেছিল ধর্ষণ হয়নি মনীষা বাল্মিকীর (Manisha Balmiki)। মনে হয়েছিল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জোরদার চেষ্টা চলছে। এবার পুলিশের দাবিকে মান্যতা দিয়েই চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্টেও (Forensic Report) দাবি করা হল নির্যাতিতার গোপনাঙ্গে ‘পেনিট্রেশন’-এর কোনও চিহ্ন নেই। মেলেনি বীর্যও। তবে এই রিপোর্ট নিয়েও ধন্ধের সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে আগ্রার ফরেনসিক ল্যাবের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, “নির্যাতিতার গোপনাঙ্গে পেনিট্রেশনের কোনও চিহ্ন মেলেনি। তবে শারীরিক নিগ্রহের প্রমাণ রয়েছে। ঘাড়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।” একইসঙ্গে জানানো হয়েছে ফরেনসিক নমুনায় বীর্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্ট সাদাবাদ পুলিশ স্টেশনের সার্কেল অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্টই আদালতে পেশ করা হবে।
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যৌনাঙ্গে পেনিট্রেশনের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু মাত্র ১০ দিনের মাথায় চূড়ান্ত রিপোর্ট সম্পূর্ণ বদলে গেল! উল্লেখ্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও বলা হয়েছিল নির্যাতিতার ভিসেরায় বীর্যের উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু নির্যাতিতা নিজে বলে গেছেন তিনি ‘ধর্ষিত’ হয়েছিলেন। কেনও কেউ নিজের মৃত্যুকালীন জবান বন্দিতে মিথ্যে বলবেন? উঠছে প্রশ্ন!
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশের এক বর্ষীয়ান পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত কুমার দাবি করেছিলেন, দলিত তরুণীর ধর্ষণই হয়নি। জাতপাতের রাজনীতি করার জন্যই কেউ কেউ তথ্যবিকৃতি করছে। ওই তরুণীর ঘাড়ে ও পিঠে আঘাতের জেরে মৃত্যু হয়েছে। একই দাবি উঠেছিল রবিবারের বিজেপির জমায়েতেও। এই ফরেনসিক রিপোর্ট যেন সেই দাবিতেই সিলমোহর দিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন ওই তরুণীর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের ১১ দিন পর ভিসেরা নমুনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এরফলে শরীরে বীর্যের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়। ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরাসে ওই দলিত তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২৫ তারিখ তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়ছিল।






