চলতি সপ্তাহেই উত্তর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ রেখার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর জেরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ভারত, পশ্চিম হিমালয়, ও উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়া দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে। দুটি নিম্নচাপ রেখা সৃষ্টি হওয়ার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত থেকে বিদায় নিতে বাধা পাবে, যার জেরে অব্যহিত থাকবে বর্ষা। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের শীর্ষস্থানীয় আবহাওয়া বিজ্ঞানী এ কে দাস জানান, “দুটি নিম্নচাপ রেখা সৃষ্টি হওয়ার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বাতাস বিদায় নিতে পারবে না। ২২শে অক্টোবরের পর তার প্রস্থান ঘটতে পারে”।
সাধারণত, প্রতি বছর ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ই অক্টোবরের মধ্যেই আমাদের দেশ থেকে বিদায় নেয় বর্ষা। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসারে, শুক্রবার প্রথম নিম্নচাপ রেখাটি তৈরি হয়েছে উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে। এরপর তা ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাবে এবং ১১ই অক্টোবর দুপুর নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর ভাগ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে পৌঁছাবে। এর জেরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হবে ওই সব অঞ্চলে।
এদিকে দ্বিতীয় নিম্নচাপটি ১৪ই অক্টোবর নাগাদ তৈরি হওয়ার পড়ে ধীরে ধীরে ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করবে। এর জেরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম থাকবে দেশে। এর আগামী প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সঙ্গে আলোচনায় বসে আবহাওয়া দফতর।
উল্লেখ্য, গতও মে মাসেই বাংলায় ও ওড়িশায় আমফান ও জুন মাসে মহারাষ্ট্রে নিসর্গের দাপটে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। এরপর ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস কপালে ভাঁজ ফেলেছে আবহাওয়া দফতরের। শীত আসতে এখনও কিছুদিন দেরী হলেও, এই নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তর-পশ্চিম ভারতে চলতি সপ্তাহে রাতের দিকে তাপমাত্রা কমতে পারে, এমন কথাও জানানো হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে।






