কয়েক মাস আগের আমফানের বিধ্বস্ত দৃশ্য এখনও তাড়া করে বেড়ায় রাজ্যবাসীকে। প্রবল এই ঝড়ে প্রায় তছনছ হয়ে যায় কলকাতা-সহ গোটা বাংলা। চাষের জমিতে জমা জল শুকোতে সময় লেগেছে প্রায় কয়েক সপ্তাহ। জায়গায় জায়গায় ভাঙা গাছ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার জেরে একরকম প্রায় নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল রাজ্যবাসীর। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে রেশ কাটতে না কাটতেই পুজোর মুখেই আরও এক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বাংলা, এমনটা আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
কথাই ছিল, গত সপ্তাহের শেষের দিকেই নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জোট ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে। এর জেরে রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। এবার এই ঘূর্ণিঝড়ই আরও শক্তি সঞ্চয় করে আছড়ে পড়তে পারে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে।
আপাতত এই নিম্নচাপ অবস্থান করছে উত্তর আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে। ১২ই অক্টোবর অন্ধ্রের উপকূলে ঝড় প্রবেশ করবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় করে তা ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আছড়ে পড়তে চলেছে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, ও মহারাষ্ট্রে। এর প্রভাবে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কিন্তু এর জেরে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে গাঙ্গেয় উপকূলবর্তী এলাকায়। যার ফলে পুজোর আনন্দ মাটি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই সতর্কতা বাণী জারি করা হয়েছে সমুদ্র উপকূলে। অন্ধ্রপ্রদেশে জারি করা হতে পারে লাল সতর্কতা। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশেও। এর জেরে কলকাতায় আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা আছে। বাতাসে আর্দ্রতাজনিত কারণে বাড়বে অস্বস্তি। পুজোর আর কয়েকদিন বাকি, এর আগেই যদি আকাশ মুখ ভার করে থাকে, এই ভাবনাই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রাজ্যবাসীর কপালে। তাই সব মিলিয়ে পুজোর আনন্দ বাঙালি কতটা উপভোগ করবে, সেই নিয়ে বেশ ধন্ধেই দিন গুনছে রাজ্য।





