সামনেই মায়ের মর্ত্যে আগমন। তবে এইবার পরিস্থিতি অন্যান্য বারের তুলনায় আলাদা। পুজোর আনন্দ হয়তো কিছুটা ফিকে, কিছুটা ম্লান। কিন্তু তাতেও মায়ের আসা-যাওয়ার বিধি পরিবর্তন হবে না। মা আসবেনও আবার যথাসময়ে চলেও যাবেন। শাস্ত্রে মায়ের বাপের বাড়িতে আসার জন্য প্রতিবছর আগমন ও গমনের পৃথক পৃথক যানবাহনের উল্লেখ আছে। আর এই ঘটনার সঙ্গে আমরা প্রত্যেকেই ছোটবেলা থেকেই অবগত। কখনও মা দোলায় চেপে আসেন, কখনও গজে সওয়়ারী হন।
আর মায়েরা আসা যাওয়ার এই পৃথক এই যানবাহনের সঙ্গে মর্ত্যের ওপর তার ফলাফলের
উল্লেখও করা আছে বিস্তারিত ভাবে। ঠিক যেমন গতবছর দেবীর আগমন আর গমন ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় হয়েছিল। গতবছর দেবীর আগমন ও গমনের ফলাফল ছিল ছত্রভঙ্গ। এর মানে দাঁড়ায় দেবীর আগমন ও গমনের পর পরিস্থিতি এলোমেলো হয়ে উঠবে। তারপর এই বছর দেবীর আগমন হয়েছে দোলা অর্থাৎ পালকিতে। দোলায় আগমনের ফলস্বরুপ পঞ্জিকায় লেখা থাকে ‘মড়ক’ অর্থাৎ মহামারী। আর দেবীর গমন হবে গজে। গজে গমনের ফলস্বরুপ পঞ্জিকায় লেখা আছে ‘শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা’।
অর্থাৎ দেবীর আগমনের মড়ক বা মহামারী, দুর্ভিক্ষ, প্রাণহানি ইত্যাদি দেখা দেবে। আর দেবীর গজে গমনে ধরিত্রী হয়ে উঠবে শস্যশ্যামলা! মায়ের প্রতিবছর কোন যানে আগমন ও গমন ঘটছে তার একটি বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। আছে একটি বিশেষ ফলাফলও। সেগুলি দেখে নেওয়া যাক –
নৌকা : নৌকা। মায়ের নৌকায় আগমন বা গমন হলো বন্যার প্রতীক। বন্যা একদিকে যেমন খারাপ, অপরদিকে তেমনি ভালো ফসলও বোঝায়।
গজ : গজ অর্থাৎ হাতি। গজরাজ হলেন শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতীক। দেবীর গজে আগমন বা গমন কে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
দোলা : দোলা অর্থাৎ পালকিতে মা এলে বা শ্বশুরবাড়িতে ফিরলে মহামারী বা মড়কের প্রতীক।
ঘোটক : ঘোটক বা ঘোড়া হল ছত্রভঙ্গের প্রতীক। ছত্রভঙ্গ অর্থাৎ পরিস্থিতির এলোমেলো হয়ে যাওয়াকে বোঝায় আবার যুদ্ধ, বিপ্লব ইত্যাদিও ঘটতে পারে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মা দুর্গার যানবাহন সম্পর্কিত প্রসঙ্গে আরও একটি কথা উল্লেখিত আছে। বলা হয় যে কোন বছর দেবীর আগমন ও গমন একই যানে ঘটলে তার পরের বছরটা খারাপ যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, গত বছর দেবীর আগমন আর গমন একই যানে ঘটেছিল আর তার পরের বছর মানে এই বছর করোনা মহামারী আছড়ে পড়লো।






