পতিতালয়ের মাটি ছাড়া দুর্গামূর্তি গড়া যায় না, কিন্তু এর পেছনে কারণ কী?

সামনেই দুর্গাপুজো, প্রায় দোরগোড়াতে কড়া নাড়ছে বলে। চারিদিকে শুরু হয়েছে মাতৃবন্দনার প্রস্তুতি। নতুন সাজে সেজে উঠছে শহর। বলা হয়, দেবী দুর্গার কাঠামো পুজো হয় রথযাত্রার দিন। এরপর আস্তে আস্তে শুরু হয় মায়ের মূর্তি গড়ার কাজ। কিন্তু প্রতিমা নির্মাণের জন্য বেশ্যালয়ের মাটির প্রয়োজন পড়ে। এখানের মাটি ছাড়া মায়ের মূর্তি গড়া সম্ভব নয়। কিন্তু কেন দেবী প্রতিমা নির্মাণের সময় পতিতালয়ের মাটি দরকার হয়, এই নিয়ে অনেকরকম ধারণা প্রচলিত থাকলেও সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই।

আসলে দেবী দুর্গার নয়টি রূপ। এগুলি হল- নর্তকী বা অভিনেত্রী, কাপালিক, ধোপানী, নাপিতানী, ব্রাহ্মণী, শূদ্রাণী, গোয়ালিনী, মালিনী ও পতিতা। এই নয়টি রূপকে মায়ের নবকন্যার রূপ বলে হয়। এই নয় গৃহের মাটি ছাড়া মায়ের রূপ নির্মাণ করা যায় না। দেবীর মূর্তি গড়ার জন্য এই নয় শ্রেণীর বাড়ি থেকেই মাটি নিয়ে আসা হয়। অন্যান্য শ্রেণীর নারীর মতো পতিতালয়ের মাটিও এই একই কারণে নিয়ে আসা হয়।

নারীর গৃহ থেকে ওই মাটি আনার পর উক্ত নয় শ্রেণীর কন্যাদের কুমারী রূপে পুজো করতে হয় ও তাদের দান সামগ্রী দিতে হয়। তবেই দেবীর মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা পায়। দেবীর এই নবদুর্গার রূপ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, এটি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, একটি উচ্চমার্গের দর্শন। দেবী দুর্গা যে সমগ্র নারীজাতির আদর্শ তা এর মধ্যে দিয়েই বোঝানো হয়। শূদ্রাণী, গোয়ালিনী, নাপিতিনী, ব্রাহ্মণীর মতো পতিতাও দেবীর আর এক রূপ। এরা প্রত্যেকেই দেবীর এক ও অভিন্ন অংশ। কেউ বড় নয়, কেউ ছোটো নয়। দেবী দুর্গার মধ্যে দিয়ে সব জাতই সমদর্শিত হয়।

নারী যে কোনও জাতির বা শ্রেণীর হোক না কেন, সে যে শক্তিময়ী সনাতনী, এটিই শাক্ত দর্শনের মূল কথা। এই কারণেই দেবী দুর্গার মূর্তি নির্মাণের জন্য অন্যান্য জাতির নারীর ঘরের মাটি ছাড়াও পতিতালয়ের মাটিও দরকার পড়ে।

RELATED Articles