অবশেষে হার মানল তনিশক্। ভুল হয়েছে, কারর আবেগে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সরে গেল বিজ্ঞাপন। তবুও থামল না বিদ্বেষ ছড়ানো। হামলা হলো বিখ্যাত এই গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থার শোরুমে। তবে বিতর্ক কি নিয়ে?
৯ই অক্টোবর তনিশক্ (Tanishq) একটি নতুন বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আনে। তাঁদের নতুন ধরনের গয়না ‘একাতভম’ (Ektabham) প্রচারের জন্য। ৪৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, এক মুসলিম পরিবার কীভাবে তাঁদের হিন্দু পুত্রবধূর সাধের আয়োজন করেছে। নিজেরা মুসলমান হয়েও সম্পূর্ণ হিন্দু রীতি মেনে। নিজের মেয়ের মতোই বৌমাকে ভালোবাসেন শাশুড়ি। তরুণী দক্ষিণ ভারতীয়। অন্ধ্র, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, তেলঙ্গানায় যেভাবে হবু মায়ের সাধ দেওয়া হয়, বিজ্ঞাপনে একদম সেই ভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। দক্ষিণ ভারতে এই রীতি ‘সীমান্থম’ (Simantham) বা ‘ভালাইকাপু’ (Bhalaikapu), নামে পরিচিত। এই অনুষ্ঠানে গর্ভবতী মহিলাকে সাধ উপলক্ষে গয়না দেওয়া হয়।
আর লোকের মন ছুঁয়ে যাওয়া বিজ্ঞাপনকে নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু শোরগোল। বয়কটতনিশক্। ‘লাভ জিহাদ’। ‘নকল ধর্মনিরপেক্ষতা’। সোশ্যাল সাইটে একের পর এক অভিযোগ, খোঁচা, হুঁশিয়ারি। বাধ্য হয়ে নতুন বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় টাটা গ্রুপের গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থা তানিশ্ক। যার জেরে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে টাইটানের শেয়ার পড়ে যায় ২.৫ শতাংশ।
তনিশক্ এর বিজ্ঞাপনের প্রচার হতেই অনেকেই জানান ওই বিজ্ঞাপনে “লাভ জিহাদ” এর উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। টুইটারে কেউ লেখেন, ‘সব সময় লাভ জিহাদ কেন প্রচার করা হয়? এক হিন্দু তরুণকে মেরে ফেলেছে মুসলিম পরিবার?’ এই ঘটনার পরেই তানিশক বিবৃতি দিয়ে জানায় ‘একাতভম’ শিরোনামে নতুন জুয়েলারির যে বিজ্ঞাপন ছিলো তার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্যতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, কারোর আবেগে আঘাত উদ্দেশ্য ছিলো না।
সম্প্রতি লাভ জিহাদ নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এদিন নিজের বক্তব্য তিনি স্পষ্ট জানান ”আমাদের মাটিতে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই শুরু হবে। অসমে কোনও ছেলে নিজের পরিচয় ও ধর্ম গোপন করে বিয়ে করলে অথবা আমাদের মেয়ে ও বোনদের সম্পর্কে কোনও খারাপ কথা বললে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।” এর আগেও একাধিক জায়গায় লাভ জিহাদ নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুনশ্চ বিজ্ঞাপনটিতে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি দেখানো হয়েছিল।






