উৎসব মানেই জমিয়ে আড্ডা ও খাওয়াদাওয়া। বাঙালীর কাছে দুর্গাপুজো সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময় মানুষ সমস্ত দুঃখ কষ্ট ভুলে আনন্দে মেতে ওঠে। চারিদিকে ঝলমল করে ওঠে আলোর রোশনাইতে। কিন্তু যাদের বাস ওই ছোট্ট ঘুপচি ঘরগুলোতে বা রাস্তার ফুটপাথে? তাদের কাছে এই আলোর রোশনাই পৌঁছায় না। পুজোয় পেট ভরে খাওয়া তো দূর, একটা নতুন জামাও হয়ত তাদের অনেকের গায়ে ওঠে না। সম্বল বলতে কয়েকটা ছেঁড়া ফাটা জামাকাপড়। এদের কথা ভাবার জন্যই হয়ত ভগবান ঋতাভরীর মতো কিছু মানুষকে পাঠান, এইসব দুঃস্থ শিশুদের ক্ষণিকের আনন্দ দেওয়ার জন্য।
নিজেকে সব সময়ই জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্যে নিযুক্ত করেছেন ঋতাভরী। এর আগে অনেকবার পথশিশুদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন নিজের আনন্দ। অনেকসময় তাদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন বইপত্র, অত্যাবশকীয় পণ্য, জামা-জুতো, ইত্যাদি। এই বছরও একটু অন্যরকমভাবেই উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী। ২১০ জন বস্তিবাসী শিশুকে উপহার দিলেন ব্যাগ, জামা। শুধু তাই নয়, পেটভরে তাদের বিরিয়ানি খাওয়ারও আয়োজন করেন ঋতাভরী। তার এই কাজে তিনি পাশে পেয়েছেন তার মা শতরূপা স্যানাল ও বন্ধুবান্ধবদের। এই দুস্থ শিশুদের মুখে হাসিটাই হয় ঋতাভরীর এবছরের পুজোয় পাওয়া সেরা উপহার।
ঋতাভরীর মা শতরূপা স্যানালের বন্ধু এমানুল হক ‘ভাষা ও চেতনা পাঠশালা’ নামের একটি স্কুল চালান। এই স্কুলেই ওই শিশুরা পড়াশোনা করে। এই বছরের পুজো অন্যবারের থেকে সত্যিই অনেকটা আলাদা। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা বন্ধ। অতিমারির জেরে দুর্গাপুজোর আনন্দটা যেন কেমন ম্লান হয়ে গেছে। এরই মাঝে এই সব দুঃস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতেই ঋতাভরীর এই উদ্যোগ। এদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে তার এই কাজের কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন যে এই শিশুদের মধ্যে অনেকেরই হয়ত এটা তাদের প্রথম ব্যাগ, অনেকেই হয়ত প্রথমবারের জন্য বিরিয়ানির চামচ মুখে ঠেকাবে। তাদের মুখের এই তৃপ্তির হাসিটুকুই ঋতাভরীর কাছে সবচেয়ে স্পেশাল।





