গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে পুলিশ হেফাজত থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ! চাঁচলে ব্যাপক লাঠিচার্জ পুলিশের!

ব্যাপক উত্তেজনা চাঁচলে! তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবস্থান-বিক্ষোভকে ঘিরে ছড়ায় এই উত্তেজনা।ঘটনা হচ্ছে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। বেগতিক দেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স‌ও।
পুলিশ এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ওই নেতার অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার দশমীর রাতে চাঁচলের শান্তিপুর মোড়ে যানজট এড়াতে পুলিশ নজরদারির ব্যবস্থা করে। অভিযোগ, মোটরবাইক নিয়ে ধৃত হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিমান ঝা জোর করে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তখনই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে আটকান। কিন্তু সেই সময় ওই ছাত্রনেতা পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগ। বাধা দিতে এসে নিগৃহিত হন চাঁচলের এক ট্রাফিক পুলিশ অফিসার‌ও। তারপরেই পুলিশ ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

এই গ্রেফতারের খবর জানাজানি হতেই মঙ্গলবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট ব্লকের তৃণমূল ছাত্র যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঁচল থানার সামনে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে সংগঠনের সভাপতি বিমান ঝাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে বিক্ষোভ। এরইমধ্যে ধৃত ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে চাঁচল মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় চরমে ওঠে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে চারজন তৃণমূল ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মী জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দুপুর দুটো পর্যন্ত চাঁচল থানা ঘেরাও করে রাখে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও যুব সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে চাঁচল মহকুমার পদস্থ পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে নিজের দলের নেতার কোন দোষ দেখতে পাননি হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূলের যুব নেতা স্বপন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘অন্যায় ভাবে ছাত্র সংগঠনের সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার প্রতিবাদ জানাতে গেলে চাঁচল থানার পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।’’

কি বলছে ধৃত? চাঁচল মহকুমা আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বলেন, ‘‘আমি কোনও দোষ করিনি। মোটরবাইক নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার বাইক আটকায়। আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এরপরই বাকবিতণ্ডার মধ্যেই আমাকে গ্রেফতার করা হয়। বিক্ষোভ দেখানোয় আমাদের দলের সমর্থকদেরও লাঠিপেটা করে।’’

RELATED Articles