বিহারে চমকপ্রদ ফল করেছে এনডিএ জোট, ফের আরেকবার মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসতে চলেছেন জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমার। বিজেপির মুখে ফুটেছে চওড়া হাসি। তাই এবার দিল্লিতে বিহার ধন্যবাদ সভায় নাম না করেই মমতা সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বললেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে পাল্লা দিতে না পারলেই দেশের বিভিন্ন অংশে বিজেপি কর্মীদের খুন করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে দিলেন হুঁশিয়ারি, যাঁরা বিজেপি কর্মীদের হত্যা করছেন, তাঁদের যোগ্য জবাব দেবে আমজনতা।
বুধবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বিহারের সাফল্যের জন্য অনুষ্ঠিত হয় ‘ধন্যবাদ বিহার’ অনুষ্ঠান। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই নাম না করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ শানান। ‘কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী’ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে পরিবারতন্ত্রে গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি কোনো রাজ্য বা দলের নাম করেননি। তাঁর কথায়, “যাঁরা গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছেন না, দেশের কয়েকটি প্রান্তে তাঁরা বিজেপি কর্মীদের খুন করছেন। তাঁরা ভাবছেন, বিজেপি কর্মীদের হত্যা করে নিজেদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবেন।
আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে বোঝাতে চাই যে আমাদের হুঁশিয়ারি দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ সেই কাজ করবে জনতা। গণতন্ত্রে এই হত্যার রাজনীতি কখনও চলতে পারে না। হত্যার রাজনীতি করে কেউ সমর্থন পাবেন না। দেওয়ালে লেখা সেই শব্দ পড়ে নেবেন।”
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হয়ত মোদী কোনো রাজনৈতিক দলের নাম করেননি। কিন্তু তার মূল নিশানা যে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেকথা বুঝতে কারোর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। গত বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই লকেট চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ ঘোষরা বারবার অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজনৈতিক হিংসার কারণে তৃণমূল বিজেপি নেতা কর্মীদের খুন করছে। রাজ্যে এরপরে অনেক বিজেপি নেতা কর্মীর খুনের খবর পাওয়া গিয়েছে।
এখন আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত বঙ্গ বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই বিষয়ে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়েছে।
এবার নরেন্দ্র মোদী নিজে সেই আক্রমণের সুর বেঁধে দিলেন যাতে করে বঙ্গ বিজেপি নেতারা অনেকটাই সাহস পেলেন তৃণমূলকে আক্রমণ করার জন্য, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।






