মহা ফ্যাসাদে পড়েছে যাদবপুরের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে চলা পড়ুয়ারা। ডিনের পদত্যাগের জেরে থমকে গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরে ভরতি প্রক্রিয়া।
এর পেছনের কারণ হিসাবে দর্শানো হয়েছে পড়ুয়াদের ভাষা ও আচরণ। এই দুটিতেই তীব্র অপমানিত হয়ে দু’মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দু’জন ডিন পরপর ইস্তফা দিলেন বলে অভিযোগ।
আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বাংলার শিক্ষামহলে।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ছাত্র সংসদের পাঠানো ই-মেলের ভাষা নিয়ে আপত্তি তুলে গত অক্টোবরে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ডিন। তা গ্রহণ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে।
এরপর স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে ছাত্র সংসদের সদস্যদের ব্যবহারে ফের অপমানিত হয়ে মঙ্গলবার ইস্তফা দেন বিজ্ঞান বিভাগের ডিন সুবীর মুখোপাধ্যায়। ছাত্র সংসদের সভাপতি জ্যোতির্ময় বিশ্বাসের নামে সরাসরি অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে অভিযুক্ত জ্যোতির্ময় এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘এই ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যা বলার বলব।’
উল্লেখ্য, যাদবপুরের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি আপাতত ডিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছেন না।
শিক্ষক সমিতি জুটা-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘বারবার ছাত্রছাত্রীদের আচরণে শিক্ষকরা অপমানিত হতে থাকলে কোনও শিক্ষকই আর এগিয়ে এসে তাঁর কাজের বাইরে অন্য দায়িত্ব নিতে চাইবেন না। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশই বিঘ্নিত হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সমিতিও বিষয়টির নিন্দা করেছে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, করোনা অতিমারীর জেরে এবার স্নাতকোত্তরে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে ৮০-২০ ফর্মুলায়। যাদবপুরের পড়ুয়াদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানের ছাত্র সংসদের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পাশ করা সব স্নাতক পড়ুয়াকেই স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি নিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি সান্ধ্য বিভাগে নয়, সকলকে ভর্তি নিতে হবে দিবা বিভাগেই। প্রয়োজনে দিবা বিভাগে গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়নের আসন বাড়াতে হবে। কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হননি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিজ্ঞানে আসন বাড়ালে ল্যাবরেটরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দেয়। গণিতের আসন বাড়ালে পড়ুয়াদের বসতে দেওয়ার জায়গা থাকবে না।
ভরতি কমিটিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত (৮০-২০ ফর্মুলায় ভর্তি) বদল করতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ। ডিনের কাছে ছাত্র সংসদের দাবি ছিল, ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে নিজেদের সব ছাত্রছাত্রীকে ভরতি নিতে হবে। ডিন জানিয়ে দেন, ভরতি কমিটির সিদ্ধান্ত বাতিল করার ক্ষমতা তাঁর নেই। এই টানাপড়েনের ফলে স্নাতকোত্তর বিজ্ঞান বিভাগে ভরতির প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত শুরু করা যায়নি।






