তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা বা ভোট বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে এবার ক্ষোভ জমছে তৃণমূলের অন্দরেই। এর আগেও শাসক দলের বিভিন্ন বিধায়ক প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
বর্তমানে বিজেপিতে যোগদানকারী একদা তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীও পিকের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছিলেন।
আর এবার সেই তালিকায় যোগ হলো হাওড়ার শিবপুরের বিধায়ক জটু লাহিড়ির মন্তব্য।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ পিকে এবং তাঁর দল আইপ্যাকের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ছুঁড়লেন তিনি।
পিকে আসার পর দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি নিজে প্রথম প্রথম কথা শুনেছেন। তারপর আর নির্দেশ শোনেননি। দলনেত্রীকে বলেও লাভ হয়নি বলে দাবি করেছেন ওই তৃণমূল বিধায়কের।
তাঁর কথায়,”হঠাৎ শুনলাম দলকে পরিচালনার জন্য ভোট বিশেষজ্ঞ আসছেন। পিকে না কে কী নাম! মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর যা ক্ষমতা আছে, বাইরের কাউকে দরকার নেই। মানুষ বিশ্বাস করেছে, এ আমাদের অধিকার রক্ষা করবে। বাইরে থেকে কাউকে আনার প্রয়োজন নেই। আমার নিজের ধারণা, পিকে-কে আসার পর থেকে আমাদের দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমি নিজেই অপমানিত বোধ করেছি। একটা ইয়ং ছেলে এসে বলছে, আপনাকে এই মিছিলটা করতে হবে। তাঁর সঙ্গে আসলেন এক ভদ্রমহিলাও। তিনি নাকি জেলার কী! সে এসে বলল, অমুক করতে হবে, মিছিল করতে হবে, রাত জাগতে হবে। প্রথম প্রথম করেছি। টিকিয়াপাড়ায় একটা বাড়িতে ছিলাম। আস্তে আস্তে মনে হচ্ছে, এটা ঠিক নয়।”
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, টিম পিকে-র সঙ্গে কাজ করে তিনি অপমানিত বোধ করছেন বলেও জানিয়েছেন প্রবীণ বিধায়ক। বলেন,”মমতা ব্যানার্জিকে দেখে সারা বাংলার মানুষ মনে করেন, ইনি পারবেন। বাইরে থেকে ভাড়া করে আনার দরকার নেই। বিনা পয়সায় তো করছে না। যে ছেলেটা আসত ৩০ হাজার টাকা মাইনে পেত। ভদ্রমহিলা আসতেন, তিনি ৪৫ হাজার টাকা পান। এসব টাকা কে দিচ্ছে? বাংলা জুড়ে কত লোক এভাবে টাকা-পয়সা পাচ্ছে! মমতা একাই একশো। এসব কাউকে দরকার ছিল না। আমি নিজে অপমানিত হয়েছি। মাস দু’য়েক আগে বলেছে, তিনটে যাত্রা করতে হবে। তুমি বলার কে? সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্লা আছেন। তার বাইরে কারও নির্দেশ শুনব না। আমার কাছে আর আসবে না।”
তবে এই প্রবীণ তৃণমূল বিধায়কের ক্ষোভ শুধুমাত্র প্রশান্ত কিশোরকে নিয়েই নয় বরং তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়েও রয়েছে। এবং সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে কোনও লুকোছাপা করেননি তিনি।
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হাওড়ার পুরসভার মেয়রের পদ থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জটু লাহিড়ি। তাঁর ক্ষোভ,”২০১৩ সালে আমায় বলা হল, কোনও বিধায়ক কাউন্সিলর হতে পারবেন না। হাওড়া পুরসভার খুঁটিনাটি আমার চেয়ে বেশি দ্বিতীয় কেউ জানে না। ২০১৩ সালে এই মুকুল রায় বলেছিলেন, দিদি বলেছেন কোনও বিধায়ক কাউন্সিলর হবেন না। অথচ কলকাতা পুরসভায় বিধায়কই দাঁড়ালেন। সল্টলেকেও তাই হল। আমার বেলাতেই খালি হল না।”





