‘টুম্পা সোনা’ গানটা এখন রীতিমতো সকলের মুখে মুখে। তরুণ প্রজন্ম তো বটেই তবে মাঝবয়সী বা বয়স্ক মানুষেরও মনে ছাপ ফেলেছে এই গান। ছোটো বাচ্চা পর্যন্ত টুম্পা সোনা শুনলেই নেচে উঠছে। শুধু তাই-ই নয়, অভিনেতা অনির্বাণের বিয়েতেও অনির্বাণ, সৃজিত মুখার্জী ও রুদ্রনীল ঘোষ, তিনজন মিলে এই গানে পা মেলান। বর্তমানে ইউটিউবে এই গানের ভিউ ৩০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে যা যে কোনও তাবড় তাবড় প্রোডাকশন হাউজকে বলে বলে ছয় গোল দেবে।
৯ই অক্টোবর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রেস্ট ইন প্রেম’ নামের ওয়েব সিরিজের প্রোমোশনাল গান এটি। এই গানের প্রসঙ্গে ওয়েব সিরিজেরব নায়ক ও পেশায় রেডিও জকি সায়ন ঘোষ বলেন “এটা তো বিজ্ঞাপনী গান, তবে ওয়েব সিরিজটা মানুষ দেখলে আরও বেশি খুশি হব”। কিন্তু শুধুমাত্র চটুলতার জন্যই কী এই গান এতটা জনপ্রিয়তা লাভ করল? এই প্রসঙ্গে সায়নের বক্তব্য, এটা খুব সহজ একটা গান। এটা এমন আইটেম সং যার কোনও ডবল মিনিং নেই। এখানে মিসোজিনি বা অবজেক্টিফিকেশন নেই। ‘টুম্পা’র চোখ ফ্যাকাশে সাদা যা দেখে লোকে চমকাবে, ঘাবড়াবে। পোশাক দেখার আগে চোখ পড়বে টুম্পার চোখে। মাইন্ড ডাইভার্ট হবে।
‘রেস্ট ইন প্রেম’–এর দ্বিতীয় এপিসোড ইউটিউব থেকে তুলে নেওয়া হয় যৌনতা দেখানোর অভিযোগে। কিন্তু এ নিয়ে কাউকে দোষারোপ করতে চান না সায়ন। তিনি মনে করেন যে কারণে এপিসোডটা তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেটা অন্যায্য। এখন পাঁচটা এপিসোডই ইউটিউব-এ দেখা যাচ্ছে।
টুম্পা’ গানটির গীতিকার এবং গায়ক আরব দে। মিউজিক করেছেন অভিষেক সাহা। আরব জানান, তার বন্ধু পরিচালক অরিজিৎ সরকার তাকে একটা মজার আইটেম সং লিখতে বলেন। তিনি একেবারেই ভালগার, ডবল মিনিং কোনও গান লিখতে চাননি। তাই খুব সাবধানে সাধারণ মানুষের চাওয়া–পাওয়া নিয়ে একটা সাদামাঠা গান লেখেন তিনি। ব্যস, এর থেকেই ‘টুম্পা’র জন্ম হয়। অনেকে এই গানটিকে মিসোজিনিস্ট বললেও, গানটা একেবারেই মিসোজিনিস্ট নয় বলেই জানান আরব।
কিন্তু কেন গানটি এত জনপ্রিয় হল, কী কারণ। এই প্রসঙ্গে আরব বলেন, নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের কথা বলে এই গান। এই যে পোচ, ওমলেট খাওয়া, খৈনি খাওয়া, দিঘায় ঘুরতে যাওয়া, এসব পপ কালচারে একেবারেই থাকে না। এইসব মানুষদের কথা সেভাবে কেউ বলে না। তাই হয়ত এই গান এত জনপ্রিয় হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
আসলে, ২০১৯ সালে আরবেরা বেশ কিছুজন বন্ধু যারা অল্প হলেও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত, তারা সকলে মিলে নিজেদের টাকা দিয়েই এই ওয়েব সিরিজটি বানান। কিন্তু মাঝে করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তা মুক্তি পেতে অনেকটাই দেরী হয়ে যায়।





