‘চক্রান্তকারী, আদর্শহীন, বিশ্বাসঘাতক’ বলে শুভেন্দুকে কষিয়ে আক্রমণ সাংসদ কল্যাণের!

আজ অমিত শাহের পাশে দাঁড়িয়ে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তৃণমূলের একদা অত্যন্ত ভরসাযোগ্য, বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দুI
আর তারপর‌ই সদ্য তৃণমূলত্যাগীকে নাগাড়ে আক্রমণ করছেন তৃণমূল নেতারা।
‘আদর্শহীন, বিশ্বাসঘাতক।’ বিজেপিতে শুভেন্দুর যোগদান ইস্যুতে কড়া আক্রমণে বিঁধলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, আজ দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেদিনীপুর কলেজ মাঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায় ২১ বছররে সম্পর্ক ছেড়ে পদ্মশিবিরে চলে যান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গেই ঘর বদল করেন তৃণমূলের বিধায়ক সাংসদ সহ ১০ জন হেভিওয়েট।
বিজেপিতে পা রেখেই সুর বদল করেন শুভেন্দু অধিকারী। যে অমিত শাহ্’র বিরুদ্ধে এতদিন ধরে গলা ফাটাতেন এবার তাঁকেই ‘বড়ভাই’ বা ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্লোগান তোলেন, ‘তোলাবাজ ভাইপো হঠাও, বাংলাকে নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দিতেই হবে।’
শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদান উত্তর পূর্বতন দল তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে এসে শুভেন্দুর বক্তব্যের তীব্র আক্রমণ করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
হুগলির শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “অধিকারী পরিবারতন্ত্রের আদৌ কি কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে? প্রশ্ন তুলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৪ সালে লোকসভায় জিতে আবার ২০১৬-তে ফিরে আসেন শুধু মন্ত্রী হওয়ার জন্য। শুধু আপনার জন্য একটা উপনির্বাচন করতে হয়েছিল। কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছিল তাতে। শুভেন্দু বলছেন, দলটা একেবারে পচে গিয়েছে। তাহলে এতদিন আপনি ছিলেন কেন‌ও? এক, আপনার ব্রেনের থিঙ্কিং প্রসেসটা অত্যন্ত স্লো যে আপনার বুঝতে বুঝতেই ১০ বছর সময় লেগে গেল। আর তা না হলে বুঝতে হবে যে নিজের ডিফেন্সের জন্য পর পর মিথ্যে কথা বলে গেলেন।”
এর পর আর‌ও কয়েকধাপ এগিয়ে শুভেন্দু’র বিরুদ্ধে তোপ দাগেন, “আজ যে প্রণাম  শুভেন্দু অমিত শাহকে করলেন, একই রকমভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একদিন করেছিলেন! আপনাকে ৩-৩টে মন্ত্রিত্ব, ৪-৫টা জেলার পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল। আর কী সম্মান চান? মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারটা‌ও দিয়ে দিতে হবে? যে কোনও মিটিংয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে খুঁজতেন, শুভেন্দু না এলে মিটিংই শুরু করতেন না। আদর্শের কথা আপনি কী বলবেন? মেদিনীপুরের মাটিতে, বিদ্যাসাগর ও ক্ষুদিরামের দেশে এরকম আদর্শহীন, বিশ্বাসঘাতক! মানুষ ভাবতে পারে না। শুভেন্দু যেখানে যেখানে জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেখানে সেখানে ভোট বেড়েছিল বিজেপির। এর থেকেই বোঝা যায় কত বড় চক্রান্ত করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে অমিত শাহর সঙ্গে ওর যোগাযোগ ছিল।”
একই সঙ্গে তার অভিযোগ আজকে মেদিনীপুরে অমিত শাহের সভা ‘ফ্লপ শো’ ছিল।‌
এদিন মেদিনীপুর কলেজ মাঠের সভায় স্থানীয় মানুষ তেমন ছিলেন না বলেও দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি দাবি করেন, এদিন মেদিনীপুরের মাঠ ভরেনি। মাঠ ভরাতে পারেননি শুভেন্দু অধিকারী।

আরও অন্যান্য খবর