আগামী বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তৃণমূলের অন্দরে দুর্নীতি আরও বেশীমাত্রায় প্রকট হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দলের মাহাত্ম্য প্রমাণ করার চেষ্টা করেই চলেছে শাসকদল। এবারের তাদের অস্ত্র বোলপুরের রতনপল্লির বাসুদেব দাস বাউল।
রবিবারই বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে সভা করে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিস্তর বিতর্ক। এদিন বিশ্বভারতী পরিদর্শনের পর বাসুদেব দাস বাউলের বাড়ি মধ্যাহ্নভোজন সারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপরই গতকাল, মঙ্গলবার বাসুদেব দাস বাউলকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন অনুব্রত মণ্ডল। বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর মেয়ের ডিএড পড়ার ব্যবস্থা করছে।
এরপরই এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে শাসকদলকে তীব্র বাক্যবাণে বিঁধলেন তিনি। তাঁর কথায়, “গত ১০ বছরে তৃণমূল সরকারের বাসুদেব বাউলের কথা মনে পড়েনি। আর অমিত শাহ্জির মধ্যাহ্নভোজন করার পরই তাঁর কথা মনে পড়ল? আরও একবার প্রমাণিত হল, সমাজের দরিদ্র মানুশগুলির দুঃখ-কষ্ট শনাক্তকরণে বিজেপিই সবথেকে এগিয়ে। অমিত শাহ্জি মধ্যাহ্নভোজন করলেই যদি গরীব পরিবারগুলি তৎক্ষণাৎ সরকারী সাহায্য পায়, তাহলে এরকম মধ্যাহ্নভোজন ভবিষ্যতে আরও হবে। আর ২০২১-এর পর এই বাসুদেব বাউল’ই (আমি বোলপুর ছাড়তেই) “তৃণমূলের বাড়ি থেকে সপরিবারে তুলে নিয়ে যাওয়ার কাহিনী নিজের মুখেই ব্যক্ত করবেন”।
প্রসঙ্গত, গতকাল অনুব্রত মণ্ডল বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন যে অমিত শাহ বাসুদেব দাস বাউলের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন করে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনও কথাই বলেন নি। তিনি নাকি শুধুমাত্র ‘নাটক’ করতেই গিয়েছিলেন। এরপর তৃণমূলের মাহাত্ম্য প্রমাণের জন্য তিনি বলেন, “ওঁর মেয়ে এখন ডি-এড করতে চায়। তাই আমাদের শিক্ষা সেলের যিনি দায়িত্বে রয়েছেন, সেই প্রলয় ব্যানার্জির সঙ্গে ওঁরা যোগাযোগ করেছিল। ওঁর পক্ষে দেড় লাখ টাকা দিয়ে মেয়েকে ডি-এড পড়ানো সম্ভব নয়, তাই আমি বলে দিয়েছি, ওঁর মেয়েকে ডি-এডটা করিয়ে দিতে”।
এদিকে অমিত শাহ ও অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্বরা বোলপুর থেকে চলে আসতেই উল্টো সুর শোনা গেল বাসুদেব দাস বাউলের মুখে। তিনি বলেন, তিনি রেশনের চাল খান, কিন্তু অমিত শাহের জন্য মিনিকেট চালের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি অভিযোগ আনেন যে, “ওঁরা আমাকে কোনও সাহায্য করেননি। এমনকি, খাওয়ার পরও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেননি। আমি ভেবেছিলাম অমিত শাহ্কে বলব যে আমার মেয়ে এমএ করে বসে আছে। টাকার জন্য ডিএড করাতে পারিনি। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। উনি শুধু সেবা করে চলে যান”।
গত রবিবার অনুব্রতর গড়ে রোড শো করে আপ্লুত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, তিনি অনেক রোড শো করেছেন, কিন্তু এমনটা কখনও দেখেননি। তাঁর এই সফল রোড শো-ই বলে দেয় যে বোলপুরের মানুষ বিজেপির উপর কতটা আস্থা রাখছেন। এরপর বিজেপিকে মানুষের চোখে কিছুটা হেয় করার জন্যই যে অনুব্রত মণ্ডলের এই ঘোষণা, তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!