মঙ্গলবার ফের একবার অমর্ত্য সেনকে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন ইকোপার্কে মর্নিং ওয়াক সারতে গিয়ে তিনি পরোক্ষভাবেই বাক্যবাণে বিঁধলেন অমর্ত্য সেনকে। বললেন, যিনি ইজের দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন না, তাদের পাশে দাঁড়ান না, তাঁর থেকে কোনও নীতিকথা শুনতে তিনি রাজী নন। এছাড়াও, লাভ জিহাদ প্রসঙ্গ নিয়েও অমর্ত্য সেনকে তোপ দাগেন দিলীপ ঘোষ।
এদিন তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেন বলেছেন, লাভ জিহাদের মধ্যে জিহাদ থাকতে পারে না। ধর্মান্তরকরণ যে আইন বিজেপি শাসিত রাজ্যে রয়েছে, তা নাকি অসাংবিধানিক”। এরপর অমর্ত্য সেনকে সরাসরি আক্রমণাত্মক সুরে তিনি বলেন, “আমি ওঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু ব্লতেচাই না। উনি তো নিজেই তিন ধর্মে তিনবার বিয়ে করেছেন। তাঁর কোনও নৈতিক কথা বলা সাজে না। যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে, দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্টে যিনি থাকেন না, তাদের কাছ থেকে কোনও নীতিকথা শুনতে আমরা প্রস্তুত নই। যারা শুনছেন তারা ডুবেছেন, আমরা ডুবতে চাই না”।
গতকাল, সোমবার বস্টন থেকে একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, “এটা বেশ চিন্তার বিষয়। এভাবে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। জীবনযাপনের অধিকার সকলের মৌলিক অধিকার। কিন্তু এই আইনের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। যে কোনও মানুষ নিজের ধর্ম বদলে অন্য ধর্মগ্রহন করতেই পারেন। এটা সাংবিধানিক অধিকার”।
এই বিষয়ে অমর্ত্য সেন এর বলেন যে, এই বিষয়ে এখনই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া ইচিত। এই আইনকে যাতে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়, এইজন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা উচিত। ভারতের ইতিহাসে এমন কোনও দৃষ্টান্ত নেই। এরপর ইতিহাসের পাতা টেনে এনে তিনি বলেন আকবরের সময় নিয়ম হয়েছিল, যে কোনও ব্যক্তি যে কোনও ধর্মের আরাধনা করতে পারবেন। বিজেপির আইন সংবিধানকে অপমান করে বলেই মনে করেছেন তিনি।
এদিকে অমর্ত্য সেনের বিরোধিতায় মুখ খুলেছেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ও। তাঁর মতে, “উনি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই কথা বলছেন”। অন্যদিকে অমর্ত্য সেনের ব্যাপারে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পাল্টা বিরোধিতা করে তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেছেন, “অমর্ত্য সেনের গুরুত্ব বোঝা দিলীপ ঘোষের পক্ষে সম্ভব নয়। অসহিষ্ণুতার রাজনীতি নিয়ে সরব হয়েছেন অমর্ত্য সেন। এই কারণেই বিজেপির তাঁকে পছন্দ নয়”।





