আধুনিকীকরণের জেরে ভাঙছে বাঙালির ইতিহাস! শপিং মল তৈরীর আঁচ পড়ল বিভূতিভূষণের বাড়িতে! উদ্বিগ্ন পুত্রবধূ

তিনি শ্রীমতী মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরিচয়? তিনি সুসাহিত্যিক তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এর স্ত্রী ও বাঙালির গর্ব কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় পুত্রবধূ।

বাংলার এমন নামজাদা পরিবারের পুত্রবধূকেই এবার আর পাঁচজনের মতো নিজের অসুবিধা জানানোর জন্য সাহায্য নিতে হয়েছে ফেসবুকের। এ দিন ফেসবুকে লেখেন, “আমি কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ। ব্যারাকপুরে সুকান্তসদনের পিছনে আমাদের বাড়ি আরণ্যক। প্রায় দু’বছর আগে আমাদের বাড়ির গা ঘেঁষে একটি বিশাল শপিং মল উঠেছে। কাজ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই আমাদের বাড়ির পিছনের পাঁচিল ভেঙে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রকমের উৎপাত চলে। পৌরসভার তখনকার চেয়ারম্যান উত্তম দাসকে বিষয়টি জানানোর পর উনি চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন বাড়ি ওঁরা মেরামত করে দেবেন।…তখনকার মতো দুতিনটে খুঁটি লাগিয়েছিলেন। এখনও কোনও সমাধান পাইনি ।”
‘আরণ্যক’ জুড়ে ছড়ানো কথাসাহিত্যিকের বিভিন্ন স্মৃতি, স্মৃতির স্মারক। কোথাও রাখা পাণ্ডুলিপি, কোথাও আবার তাঁর ব্যবহৃত আসবাব। ইতিহাসকে যত্ন সহকারে রক্ষা করছেন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। কিন্তু কতদিন এইভাবে পারবেন। চিন্তিত মিত্রা দেবী। কারণ তাঁদের নিজেদেরই জীবন এখন সংকটে।

কিন্তু তাঁদের মতো গৌরবোজ্জ্বল পরিবার কেন‌ও পাচ্ছেনা প্রশাসনিক সাহায্য? কেনও তদ্বির করছেন না তাঁরা?

মিত্রাদেবীর স্পষ্ট উত্তর, “বহু জায়গায় তদ্বির করেছি। কিন্তু কোনও রহস্যজনক কারণে কিছুই করতে পারছি না।” বিভূতিভূষণের পুত্রবধূ প্রশ্ন তুলেছেন, “তবে কি ভদ্রতার দিন ফুরলো?”

ব্যারাকপুর অঞ্চলে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের প্রতি সম্ভ্রম অটুট মানুষের। অতীতে ব্যারাকপুরের পুরপ্রশাসক বলেছেন, সর্বতোভাবে সাহায্য করবেন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারকে। কিন্তু কোথায় কি!
তবে এই ঘটনায় শুধুমাত্র বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার নয়, প্রবল সংকটে রয়েছে বিভূতিভূষণের পরিবারের প্রতিবেশীরাও। বাসবী চক্রবর্তী নামের এক মহিলা জানান, বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। সব সময়‌ই মনে হয় ভূমিকম্প হচ্ছে।
চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মল হচ্ছে। ব্যারাকপুরবাসীর স্বার্থে এই কাজ বন্ধ করা যাবে না।

RELATED Articles