নেতাজি ভেবে প্রসেনজিৎ-এর ছবি উন্মোচন করেছেন রাষ্ট্রপতি! জনতাকে উস্কেছিলেন মহুয়া, সত্য জানালেন চন্দ্র বোস, সৃজিত

ভোটের মুখে নেতাজিকে নিয়ে বিতর্ক অব্যহত। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ধুমধাম করে পালন করা হয় কলকাতায়। সেই অনুষ্ঠানের রাম নাম শুনে ছন্দ কাটেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তারপরই নতুন বিতর্ক শুরু হয় রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের নেতাজির একটি ছবির উন্মোচনকে কেন্দ্র করে। ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানান তর্ক-বিতর্ক।

অনেকেই ছবিটিকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘গুমনামি’ সিনেমার এর ছবি বলে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও বেশি করে ভাইরাল হয়ে যায় কারণ এই ছবিটিকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ট্যুইট করেন।

ছবিটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘রাম মন্দিরের জন্য ৫ লক্ষ টাকা দান করে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ নেতাজির ছবির বদলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছবি উন্মোচন করেছেন। ভগবান বাঁচাক এই দেশকে, কারণ সরকার আর বাঁচাতে পারবে না।

এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো প্রশ্ন ওঠে, ওই ছবি কি নেতাজির নাকি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের?

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সমেত কংগ্রেস এবং অন্যান্য বাকি নেতারা এই ছবিটি নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করা শুরু করে দেয়। এরপর জানা যায় যে, রাষ্ট্রপতি তথা কেন্দ্র সরকারকে বিঁধে নেতাজির যেই ছবিটিকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি আসলে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর‌ই। সেই ছবিটি এঁকেছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপ্ত বাংলার বিখ্যাত শিল্পী পরেশ মাইতি। আর সেই ছবিটির অনুকরণেই রাষ্ট্রপতি ভবনে নেতাজির ছবিটি বানানো হয়েছে।

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু নিজে সেই ছবি শেয়ার করে সবাইকে আসল ঘটনা জানান। এমনকি শিল্পী পরেশ মাইতিও স্বীকার করেছেন যে, এই ছবিটি তাঁর ছবির আদলে বানানো। এরপর বাধ্য হয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র পোস্ট ডিলিট করে দেন।

এরপর সর্বশেষ সেই জল্পনায় জল ঢাললেন ‘গুমনামি’র পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়।

সোমবার ট্যুইটে সৃজিৎ লেখেন, ‘রাষ্ট্রপতি ভবনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর যে ছবি উন্মোচন করা হয়েছে, সেই ছবিটি এঁকেছিলেন পরেশ মাইতি। নেতাজির সেই আদলের সঙ্গে প্রসেনজিতের ‘লুকের’ যদি কোনও মিল পান, তার পুরো কৃতিত্ব সোমনাথ কুণ্ডুর।’

RELATED Articles