বিজেপিতে যোগ দিয়েই নাগাড়ে অভিষেককে আক্রমণ করছেন শুভেন্দু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাক্ যুদ্ধে জড়িয়েছেন দুজনেই। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। প্রায় প্রত্যেক সভা থেকেই অভিষেককে নিশানায় রেখে তোলাবাজ ভাইপো’ স্লোগান তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সাংসদকে ‘গরুচোর’, ‘কয়লাচোর’ বলেও কটাক্ষ করছেন তিনি। নারদকাণ্ডে টাকা নেওয়ার ভিডিও-কে হাতিয়ার করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন অভিষেকও। ভরা জনসভায় বলেছেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি বা তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রকাশ্যেই ফাঁসির মঞ্চে মৃত্যুবরণ করবেন।’
আর এবার অধিকারীদের গড় বলে পরিচিত কাঁথি থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক। টেনে আনলেন শিশির অধিকারীর প্রসঙ্গও।
প্রসঙ্গত এখন প্রায় অনেক সভাতেই শুভেন্দু অভিষেকের স্ত্রীকে আক্রমণ করছেন। আর তাই পাল্টা পারিবারিক আক্রমণের পথের অভিষেকও।
রাজনীতিকে রাজনীতির আঙিনায় না রেখে যেভাবে তাঁকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিরোধীরা বারবার তাঁর স্ত্রীর সোনা নিয়ে ধরা পড়ার প্রসঙ্গ টেনে আনছে, আজ তারও কড়া ভাষায় জবাব দিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।
এদিন দুপুর ২টো নাগাদ দইসাইয়ে জনসভা করেন তৃণমূল সাংসদ। সেখানে অভিষেক বলেন, ‘এখন আবার আমার সঙ্গে না লড়াই করে আমার বৌকে টার্গেট করেছে। কী বলছে? বলছে আমার বৌয়ের নাকি এখানে ওখানে অ্যাকাউন্ট আছে। আমি বলছি আমার বৌয়ের কলকাতা ছাড়া আর কোথাও অ্যাকাউন্ট নেই। আরে আমি তো সমস্ত তথ্য-পরিসংখ্যান সামনে রেখে দিয়েছি। কী বলছে? আমার বৌ নাকি দু’বছর আগে সোনা নিয়ে এয়ারপোর্টে ধরা পড়েছিল। তখন কি তোর সিআইএসএফ আর সিবিআই কি নাকে নস্যি দিয়ে ঘুমোচ্ছিল যখন ধরা পড়েছিল! এয়ারপোর্টে তো পাঁচশো সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, যদি সোনা নিয়ে ধরা পড়ে থাকে তাহলে সিসিটিভি ফুটেজ পাবলিশ করছো না কেন! কেন প্রকাশ্যে আনছো না। আমি তো তার পরের দিনই সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলাম।’
বিজেপির ‘তোলাবাজ ভাইপো’ আক্রমণের জবাবও দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। অভিষেক বলেছেন, ‘ওই বীরেন্দ্রনাথ শাসমল যেমন বলেছিল না, দাঁড় করিয়ে পুড়িও, আমার তোলাবাজির প্রমাণ দিতে পারলে আমিও বলব দাঁড় করিয়ে আমাকে ফাঁসির মঞ্চে তুলো, আমি মৃত্যুবরণ করব।’
একইসঙ্গে তিনি যে বিজেপি নেতাদের মনে আতঙ্ক ধরিয়েছেন তার জবাবও এদিন দেন অভিষেক। ‘কথায় কথায় কী বলছে, ঘুমাচ্ছে ভাইপো, উঠছে ভাইপো, সকালে হাঁটছে ভাইপো, খাচ্ছে ভাইপো। আতঙ্ক হয়ে গিয়েছে। ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখলে ১০ মিনিট খালি ভাইপো, ভাইপো, ভাইপো, ভাইপো করছে। এত ভয়।’






