রাস্তার ফলক দেখে মাইল আবিষ্কার করেছিলেন বিদ্যাসাগর। বিতর্কিত মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ফের বিতর্কিত এক মন্তব্য করে বসলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দুশো বছরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বীরসিংহ গ্রামের এক অনুষ্ঠানে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে গিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরও একবার ইতিহাস গুলিয়ে ফেললেন তিনি।

হ্যাঁ, এবারে বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়েই বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে মুখ্যমন্ত্রী বলে বসলেন যে, রাস্তার ফলক দেখেই নাকী মাইল আবিষ্কার করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। শুধু তাই নয়, এরপর তিনি আরও মন্তব্য করেন যে বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী৷ ফের একবার ঘেঁটে ঘ হয়ে গেলো বিদ্যাসাগরের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পরই মৃদু গুঞ্জন শুরু হয় সেই অনুষ্ঠানে। যদিও যারা মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে অভ্যস্ত তাদের খুব একটা প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷

ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তরফে বিদ্যাসাগরের জীবনীতে জানা যায় যে, বিদ্যাসাগর খুবই মেধাবী এক ব্যক্তি ছিলেন৷ তিনি একদা তাঁর গ্রাম থেকে তাঁর পিতার সঙ্গে কলকাতা আগমনের সময় রাস্তায় মাইলের হিসেব লেখা ফলক দেখে সংখ্যা পড়তে শিখেছিলেন। মাইল আবিষ্কার করেননি। রাস্তার দূরত্ব নির্ণায়ক মাইল নামক এই একক এর উপস্থিতি নিদর্শন মেলে প্রাচীন রোমানিয়াতেও। কাজেই স্পষ্টই বোঝা যায় যে, বিদ্যাসাগর মাইলের আবিষ্কর্তা নয়। অপরদিকে গত রবীন্দ্র জয়ন্তীতেও এমনকি এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন যে, বেলিয়াঘাটায় মহাত্মা গান্ধী যখন অনশন করেছিলেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিকট যান এবং ফলের রস খাইয়ে গান্ধীজির অনশন ভঙ্গ করেন৷ এরপরই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকী রচনা করেন “জীবন যখন শুকায়ে যায়” গানটি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ১৯৪৭ সালে বেলিয়াঘাটায় এই অনশনের বসেছিলেন মহাত্মা গান্ধী অথচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনাবসান হয়েছিল ১৯৪১ সালে। এছাড়াও সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই নেতা সিধো এবং কানহো কে নিয়েও ইতিহাস গুলিয়ে ফেলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এরপরই ফের তাঁর এই ইতিহাস গুলিয়ে যাওয়া মন্তব্য সৃষ্টি করলো বিতর্কের।

RELATED Articles

Leave a Comment