তবে কি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার প্রস্তুতি শুরু? প্রতিনিধিদলের রিপোর্টের অপেক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবার ছিল নাটকীয় সব ঘটনা, চরম উত্তেজনা। বাংলা জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছিল বিজেপি। রাজ্যে এসে হত্যে দিয়ে পড়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। রেকর্ডসংখ্যক বাংলায় সভা করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু আখেরে লাভ কোন কিছুতেই হয়নি। বাংলায় কাজ করেনি মোদী-শাহ্ ম্যাজিক।

ভোটের ফল প্রকাশ পেতেই রাজ্যজুড়ে আসতে থাকে ভোট-পরবর্তী হিংসার খবর। বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ নেমে আসে বিজেপি সিপিএম কর্মী সমর্থকদের ওপর। ইতিমধ্যেই নিজের সমর্থকদের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে রাজ্যে ঘুরে গেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা l

আরও পড়ুন- বিজেপি করা ‘অপরাধ’! প্রকাশ্য রাস্তায় ‘বাংলার মেয়ে’কে কান ধরে উঠবস করালেন তৃণমূল নেত্রী

রাজ্যের থেকে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সম্পূর্ণ রিপোর্ট চেয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতিমধ্যে দু’বার মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছিল অমিত শাহ্’র মন্ত্রক। বুধবারই রাজ্যকে এই নিয়ে সতর্ক করেছিল তাঁরা। উপযুক্ত জবাব না পেলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয়কুমার ভাল্লা। বাংলার হিংসা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

গতকালই বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চার প্রতিনিধির দল। নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত সচিবস্তরের আধিকারিক।

আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজ্যপালের, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার রিপোর্ট পেশের আগে বিশেষ আলোচনা 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে রিপোর্ট পেশ করার আগে আজ, শুক্রবার এই প্রতিনিধিদল রাজভবনে গিয়ে দেখা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে। এদিন রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় তাঁদের মধ্যে।  রাজ্যপালের সঙ্গে এই প্রতিনিধিদল দেখা করার আগে বালিগঞ্জে বিএসএফের সদর দফতরে যান বিজেপির প্রতিনিধি দল। এই দলে ছিলেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিনিধিদলকে প্রায় আড়াইশো পাতার রিপোর্ট এবং হিংসা প্রতিহিংসাপ্রবণ এলাকাগুলি সরজমিনে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান তাঁরা।

ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১২ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।  শপথ গ্রহণের পরই পরিস্থিতি সামাল দিতে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী, বাংলা অশান্তি পছন্দ করেনা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করতে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি।

আরও অন্যান্য খবর