অভিযোগ আমজনতার তরফে আগেই উঠেছিল। তবে এবার করুণাময়ী রানী রাসমণিতে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ উঠল খোদ বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের তরফে।
ইতিহাস নির্ভর বা পুরান ভিত্তিক যে সমস্ত কাহিনী নিয়ে টেলি সিরিয়াল তৈরি করা হয় তার বেশির ভাগটাই স্ক্রিপ্ট রাইটারদের স্বরচিত। কারণ সেই গল্পকে টানতে হয় বহুদিন ধরে। আর তা করতে গিয়েই বারবার তথ্য বিকৃতি।
অভিযোগ উঠেছে জি বাংলায় সম্প্রচারিত রানী রাসমণি সিরিয়ালে সাবর্ণ রায়চৌধুরী ও কালীঘাট মন্দিরের যে ইতিহাস দেখানো হয়েছে তাতে অনেক ক্ষেত্রেই ভ্রান্তি রয়েছে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন ওই পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায় চৌধুরী।তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, উক্ত সিরিয়ালে কালীঘাট মন্দির প্রসঙ্গ ও মন্দির নির্মাতা সন্তোষ রায় চৌধুরীর যে অংশ দেখানো হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা এবং ভুল।
দেবর্ষি রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, অন্যান্য পর্ব সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করতে পারবেন না কিন্তু সাবর্ণ বংশের যে অংশগুলি সিরিয়ালে দেখানো হয়েছে তা ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা। সিরিয়ালে দেখানো হয়, সাবর্ণ জমিদার সন্তোষ রায়চৌধুরী নিজে গিয়ে রাসমণির শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তাঁকে কালীঘাটের মন্দিরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অথচ ইতিহাস অনুযায়ী, রাসমণির বিয়ে হয় ১৮০৪ সাল নাগাদ। কিন্তু এর ৫ বছর আগেই প্রয়াত হন সন্তোষ। দু’জনের কখনও সামনাসামনি দেখা হওয়ার কথাই নয়। মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করলেও সম্পূর্ণ হওয়াটাও দেখে যেতে পারেননি প্রতিষ্ঠাতা সন্তোষ রায় চৌধুরী। পরে তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করেন তাঁর নাতি রাজীবলোচন রায়চৌধুরী। কিন্তু ইতিহাসের এই পুরো হিসেবটাই গুলিয়ে গন্ডগোল করে ফেলেছে সিরিয়াল নির্মাতারা।
দেবর্ষি বাবুর কথায়, ‘এই টেলি সিরিয়ালের জনপ্রিয়তার কারণে আপামর বঙ্গবাসীর কাছে ভুল তথ্য গিয়ে পৌঁছাচ্ছে। যদি লেখক সঠিক তথ্য পরিবেশন করতে চাইতেন তাহলে অবশ্যই আমাদের পরিবারের সঙ্গে একবার যোগাযোগ করতে পারতেন।’
ঐতিহাসিক বিকৃতিকে এমন স্থানে নিয়ে গিয়ে পৌঁছলে ফেলেছেন নির্মাতারা যে হিসেব মেলানো নেহাতই হাস্যকর হয়ে উঠেছে। দেবর্ষি বাবু জানিয়েছেন, সিরিয়ালের প্রতিটা পর্ব ধরে ধরে বললে বোঝানো সম্ভব হবে ইতিহাস কতখানি বিকৃত হয়েছে, যেমন সিরিয়ালে দেখানো হয়েছে কালীঘাটের ব্রহ্মশিলা আদিগঙ্গার ধারে পড়ে রয়েছে। পরে কাপালিকরা পুজো করে তাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করছেন। সেই সময় রানি রাসমণিকে নৌকাপথে আসতেও দেখা যায়। অথচ শিলাখণ্ডের ওই ঘটনা ১৫৭০ সালের। যা রানীর জন্মের প্রায় আড়াইশো বছর আগের ঘটনা! তাছাড়া সেই সময় কালীঘাট মন্দির সংলগ্ন এলাকায় যে পরিমাণ বনজঙ্গল দেখানো হয়েছে তাও ইতিহাসের সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না। কারণ ততদিনে কালীঘাট নামক জনপদটি তৈরি হয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উক্ত সিরিয়ালের শুরুতেই সতর্কীকরণ বিধি হিসেবে পর্দায় বলে দেওয়া হয় এটি একটি কাল্পনিক গল্প।
অর্থাৎ তাহলে বলতে হবে গল্প কাল্পনিক হলে এখানে প্রধান চরিত্র রানী রাসমণি, গদাই ঠাকুর সবাই নাকি কাল্পনিক চরিত্র। বাংলার অতিপরিচিত মহাপুরুষদের সঙ্গে নাকি এঁদের কোনও সম্পর্কই নেই! আর সেই কারণেই ইতিহাসের এই বিপুল বিকৃতি? না জানতে চাওয়ার ইচ্ছাই নেই? নাকি শুধুমাত্র টিআরপির লোভে যা ইচ্ছা তাই লিখে দেওয়া হয়?






