ছোট থেকে অভিনয় করছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ পরিচিত মুখ। বাংলা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন চেন্নাই। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জন্য বাতিল হয়ে গেছে সমস্ত পরিকল্পনা। শুটিং বন্ধ। আটকে রয়েছে একাধিক ছবির মুক্তি। এই ভয়ঙ্কর দমবন্ধ করা অবস্থায় নিজের জীবনের অন্ধকারময় দিকের কথা শোনালেন অভিনেত্রী ঋত্বিকা সেন।

বাড়িতে বন্দি অভিনেত্রী চাইছেন, সবাই সুস্থ হয়ে উঠুক। ফিরে আসুক আগের মতো করোনামুক্ত পৃথিবী। বাড়িতে বসে কীভাবে সময় কাটছে অভিনেত্রীর? করোনাকালীন সময় কি কি কাজ রয়েছে তাঁর হাতে? ব্যক্তিগত জীবন কেমন ভাবে কাটে তাঁর?

প্রশ্নের উত্তরে খোলামেলা বর্তমানে বিবি অনার্স নিয়ে বেহালার একটি কলেজে পাঠরতা ঋত্বিকা। অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাও সমানতালে চালিয়ে যেতে চান তিনি। অনেক ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করছেন। কাজেই পড়াশোনা আর অভিনয়কে একসঙ্গে সামলানো তাঁর মজ্জাগত হয়ে গেছে।

পড়াশুনায় বেশ ভালো ঋত্বিকা। তার কথায় ‘আমি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কলকাতার একটি কনভেন্টে পড়াশোনা করেছি। সেই সময়ে ‘১০০ পান্সেন্ট লাভ’, ‘আরশিনগর’ এই সমস্ত ছবিগুলো পরপর মুক্তি পেয়েছে। সবার সঙ্গে স্কুলে পড়লেও বন্ধুদের সঙ্গে আমি মন খুলে মিশতে পারতাম না।’

পড়াশোনা করার সময় নিজের জীবনে ঘটা বেশকিছু অনভিপ্রেত ঘটনার কথাও বলেন অভিনেত্রী, তিনি জানিয়েছেন, ‘স্কুলে আমায় কেউ আমার নাম ধরে ডাকত না। সবাই বলত হিরোইনি। সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা, সবাই আমায় অন্য নজরে দেখত। নতুন ছেলে-মেয়েরা আমায় এসে বলত, তুমি ও ইন্ডাস্ট্রির মেয়ে। বাবা-মা শিখিয়ে দিয়েছে তোমার সঙ্গে বেশি কথা না বলতে। স্কুলে কখনও যদি অসুস্থ হয়ে পড়তাম, শিক্ষিকাদের জানালেন তাঁরা বলতেন, এটা তোমার শ্যুটিং ফ্লোর নয়। এখানে অভিনয় করা চলবে না। আমার কোনও বন্ধু ছিল না। ধীরে ধীরে আমি অন্তর্মূখী হয়ে পড়তে থাকি।‘

বর্তমানে বাংলা ছেড়ে তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন ঋত্বিকা। সেই সূত্রেই চেন্নাই যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অভিনেত্রীর কথায় ‘এইসময় চেন্নাইতে গেলে আটকে যেতাম। আমি নিজেই শ্যুটিং বাতিল করেছি। লকডাউন হবে এমন আভাস সবার কাছেই ছিল। আবার বাংলা ছবি দ্রৌপদীর কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। লকডাউনের জন্য ছবি মুক্তি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।’





