একদা বঙ্গ জীবনের অঙ্গ হ্যারিকেন, লম্ফ, তেলের কুপি এখন অতীত স্মৃতি। আগে লোডশেডিং হলে আলোর অন্যতম উৎস ছিল হ্যারিকেন, কুপিবাতি, মোমবাতি। তবে হ্যারিকেন সবার ঘরে ছিলনা। সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নেই এমন পরিস্থিতিও ছিল এই সমাজের মানুষের ঘরে। তাঁদের জন্য ছিল লম্ফ, কুপি, মোমবাতি। কিন্তু বর্তমানে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন আর কোনও বাড়িতেই হাজার বছরের ঐতিহ্যের সেই হ্যারিকেন, কুপি চোখে পড়েনা। কোনও দোকানে তেমনভাবে পাওয়াও যায় না। সচরাচর মেলেনা মোমবাতি টুকুও।
তবে বছর বছর হওয়ি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ির আনাচে-কানাচে থেকে নেমে আসে এই ধুলো ভর্তি জিনিসগুলো। কারণ দীর্ঘ সময়ব্যাপী লোডশেডিংয়ে এগুলোই ভরসা। প্যাকেট প্যাকেট মোমবাতি কিনতে ছোটেন বাড়ির কর্তা। বিদ্যুৎ থাকবে না যে!
আরও পড়ুন- যশ মোকাবিলায় প্রস্তুত পুরুলিয়া! মোতায়েন সেনাবাহিনী, NDRF
আর গতবছরের আমফান বঙ্গবাসীকে এই বিষয়ে সমুচিত শিক্ষা দিয়েছে। আর তাই সরকার যখন রাজ্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন বিভিন্ন পরিবার নিজেদের আসন্ন অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষা পেতে মোমবাতি, টর্চ, হ্যারিকেন, লম্ফের ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ করেনা এমার্জেন্সি আলোও।
বিদ্যুৎ যে থাকবে না এবং তা অনেকক্ষণের জন্যই তা বুঝতে পেরেই ইতিমধ্যেই অনেকে পানীয় জল মজুত করে রাখছেন।
তবেই ঘূর্ণিঝড় বিপদ ও আশঙ্কা মাথায় নিয়ে আসলেও এই অবস্থায় কিছু নুইয়ে পড়া ব্যবসা মন্দা কাটিয়ে তেড়ে-ফুঁড়ে ওঠে। যেমন কাঁকুড়গাছির ভিআইপি মার্কেটের মনোহারী দোকানের মালিক সুবীর পালের কথায়, ওই বাজারের প্রায় প্রতিটি দোকানেই মোমবাতির মজুত শেষ। তিনি বলেন, “সাধারণত, কালীপুজোর সময়ে বাজারে মোমবাতির চাহিদা বাড়ে। সেই অনুয়ায়ী দোকানে স্টকও বাড়াই। কিন্তু এ বার ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জন্য মোমবাতির বিক্রি বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ। এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টা দোকান খোলা থাকছে। দোকান বন্ধ হওয়ার পরেও অনেকে মোমবাতি চেয়ে ফোন করছেন।”
তাঁর কথায়, ঘূর্ণিঝড় যবে থেকে আসবে জানা গেছে, মোমবাতির পাশাপাশি টর্চের ব্যাটারির চাহিদাও এখন খুব বেশি। শহরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীর কথায়, ঘূর্ণিঝড়ের কথা ভেবে তাঁরা সুকিয়া স্ট্রিটে একটি আশ্রয় শিবির তৈরি করেছেন। সেখানকার জন্যই মোমবাতি কিনতে গিয়ে তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! অনীশ বলেন, “ওখানে ৫৫ টাকার বড় মোমবাতি ৯০ টাকা চাইছে। কেনও দাম বেশি জানতে চাইলে বলছে, জোগান নেই। মাঝারি সাইজের এক প্যাকেট মোমবাতির দামও প্রায় দ্বিগুণ। ঝড়ের পরে কী হবে ভেবে একটু বেশি করে জলের জারও কিনে রেখেছি। সেটার দাম ঠিকই নিয়েছে।”
মোমবাতির এই অকাল চাহিদা দেখে তাকে ‘আপৎকালীন সামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ওয়্যাক্স বেসড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক সমীর দে।
তাই চায়না আলোয় বাজার ছেয়ে গেলেও পুরোনো জিনিসের যে কদর আলাদা তা বুঝিয়ে ফের দু’দিনের জন্য বাজারে ফিরছে মোমবাতি, টর্চ।





