আগেই কলকাতার ভুয়ো টিকাকরণের বিষয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি। সিবিআই তদন্তের দাবীও জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবার এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনকে চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই চিঠিতে তিনি দাবী করেন যাতে এই ভুয়ো টিকাকরণ কাণ্ডের তদন্ত করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গতকাল, শুক্রবার বিজেপি প্রতিনিধি দল নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে যান শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি জানান যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তিনি চিঠি লিখবেন।
সেই চিঠিতে কী লেখেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক? লেখেন, “দেবাঞ্জন দেব নামের একজন ভুয়ো আইএএস কলকাতা পুরসভার যুগ্মসচিবের নাম ভাঁড়িয়ে কসবার ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার ব্যানারে একটি জাল টিকাকরণ কেন্দ্রের আয়োজন করেন। সেই শিবির সাজানো ছিল নীল-সাদা বেলুনে, যা শাসকদলের ট্রেড মার্ক”।
এছাড়াও, দেবাঞ্জনের সঙ্গে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, দেবাশিস কুমারের ছবির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু, এমনটাই জানা গিয়েছে। তাঁর আরও দাবী, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ টিকাকরণের দিক দিতে রেকর্ড গড়ছে, আর বাংলায় ভোটার স্লিপের মতো টিকার টোকেন দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আর এই সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভুয়ো টিকাকরণ কাণ্ড।
এর আগেও শুভেন্দু এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তাঁর মতে, এই জাল টিকার জেরে যদি কারোর কিছু হত, তাহলে রাজ্য সরকার বলত যে মোদীর পাঠানো টিকা নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। স্পষ্ট করে সিবিআইয়ের নাম না নিলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবী তুলেছেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুন- করোনা টিকা-সংক্রান্ত কোনও অ্যাপ বা অনলাইন পোর্টাল ছাড়া টিকাকরণ হবে না, নয়া নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের
গতকাল থেকেই সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে চর্চা তুঙ্গে। তবে সিবিআই কোনও রাজ্যের বিষয়ে সরাসরি তদন্ত করতে পারে না। তবে এই টিকাকরণ কর্মসূচী যখন জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচীর অন্তর্গত ও এর সঙ্গে ভারত সরকার সরাসরি যুক্ত, তাই এক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের ভার নিতেই পারে। এখন দেশে তার উপর বিপর্যয় ও মহামারী মোকাবিলা আইন জারি রয়েছে। তাই সিবিআইয়ের পক্ষে এই তদন্তভার নেওয়ার মধ্যে কোনও বাধার সৃষ্টি হবে না।






