ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের জের, পাকিস্তানে অগ্নিমূল্য ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস

পাকিস্তানের জন্য সত্যিই সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ তো রয়েইছে, এরই মধ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থা। এর জেরে চাপ বেড়েছে বাজারে। আকাশ ছুঁয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।

বর্তমানে পাকিস্তানে এক কেজি চিনির দাম দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকা। রমজানের সময়ও কেজি প্রতি ময়দার দাম ছিল ৯৬ টাকা। কিন্তু কেন এই মূল্যবৃদ্ধি? বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়ার ফল ভুগতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

আসলে ২০১৯ সালের অগাস্ট  মাসে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ও অনুচ্ছেদ ৩৫এ বাতিল করে ভারত। যার চূড়ান্ত বিরোধিতা করে ইমরানের দেশ। এরপরই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান।

আরও পড়ুন- সন্ত্রাসে বিরাম নেই পাকিস্তানের, FATF-এর ধূসর তালিকাতেই থাকতে হচ্ছে ইমরানের দেশকে

তবে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ হওয়ার ফলে বিশেষ প্রভাব পড়েনি ভারতের উপর। ভারত থেকে মূলত চিনি, কার্পাস ও ওষুধপত্র রপ্তানি হত পাকিস্তানে। তবে পাকিস্তান থেকে ভারতে আমদানি কম হয়, রপ্তানি বেশি হয়। এই কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিবেশী দেশকে।

ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধ হলে নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধের দামও বেড়ে যায় পাকিস্তানে। ভারত থেকে পোলিও ভ্যাকসিন, অ্যান্টি রেবিস, টাইফয়েড, এই জাতীয় ওষুধ আমদানি করত পাকিস্তান। কিন্তু ব্যবসা বন্ধের কারণে ওষুধের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ওষুধের বাণিজ্যতে ছাড় দেয় পাকিস্তান।

বর্তমানে চিনি, কার্পাসের রপ্তানি বন্ধ থাকলেও প্রায় ১৮০.২৬ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কেমিক্যাল রপ্তানি করেছে ভারত। পরিবর্তে আমদানি করেছে বাদাম, বিভিন্ন ফল, খনিজ দ্রব্য, সন্দক লবন, তেল যার মুল্য ৩২৬ মিলিয়ন ডলারের মতো।

এই কারণে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতির মুখ দেখতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এও জানা গিয়েছে যে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীরা বারবার ভারতের সঙ্গে ব্যবসা পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তা শুনতে নারাজ ইমরান খান। এর জেরে পাকিস্তানে বদল হয়েছে চার অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন- ভুয়ো টিকাকরণ কাণ্ড ইস্যুতে হর্ষবর্ধনকে চিঠি শুভেন্দুর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবী 

কিন্তু কেন ফের ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালু করছেন না ইমরান? বিশেষজ্ঞদের মতে, দেড় বছর বাদে পাকিস্তানে নির্বাচন। তাই এই সময় মৌলবাদীদের কোনওভাবেই চটাতে চাইছেন না ইমরান। আবার অন্যদিকে, কাশ্মীরে পুনরায় ৩৭০ ধারা জারি করতে নারাজ ভারত। এই কারণেই আর্থিক মন্দার মুখ দেখেও সম্পূর্ণ নীরব ইমরান খান।

RELATED Articles