দক্ষিণ আফ্রিকাতে হিন্দুদের উপর নির্যাতন নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রথমদিকে থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করা হিন্দুদের উপর অত্যাচার, তাদের বাড়িঘর ভাঙা, তাদের ব্যবসায় ক্ষতি করা নানান ধরণের হিংসার ঘটনা ঘটে এসেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও নির্মমরূপের আকার নিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্বান নামের অঞ্চলে প্রায় ১২ লক্ষেরও বেশি ভারতীয়রা বসবাস করেন। এখানে এই ভারতীয়রা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। তাদেরে সেখানকার বাসিন্দাই বলা চলে। দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়দের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই হিন্দু।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণ-বিদ্বেষ ও নিপীড়নের সঙ্গে ভারতীয়রা পূর্বপরিচিত। ১৯৪৯ সালে বর্ণবৈষম্যের যুগে দুর্বান দাঙ্গার কালে জুলু উপজাতি ভারতীয়দের বাড়িঘর হামলা করে। এর জেরে চল্লিশ হাজারেরও বেশি ভারতীয়দের ঘরছাড়া হতে হয় ও শ’য়ে শ’য়ে হিন্দু মারা যায়।
এরপর এই বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে ভারতীয়রা সংগ্রাম চালায়। বর্ণবৈষম্যের পরবর্তী সময়েও ভারতীয়দের সন্দেহের নজরে দেখত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষরা ও তাদের সঙ্গে পর্যটকের মতোই ব্যবহার করা হত।
২০২১ সালের জুন মাসে এই দুর্বান অঞ্চলে এ সপ্তাহের মধ্যে ছ’টি হিন্দু মন্দিরে হামলা চালিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকানরা। মন্দিরের নানান মুল্যবান জিনিস-সহ ১০০ বছরের পুরনো শক্তিদেবীর মূর্তিকেও চুরি করা হয়। এই শক্তিদেবীর মূর্তি সম্পূর্ণ রূপোর ধাতুর তৈরি ছিল। এই ঘটনায় দুর্বান অঞ্চলের হিন্দুরা শোকপ্রকাশ করেন।
এমনকি, জুলাই মাসেও ভারতীয়দের উপর আবার নতুন করে হামলা করা হয়। হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর থেকে শুরু করে লুঠপাট, দাঙ্গা সবই চলে। এমনকি হিন্দুদের শপিং মলে গিয়েও জুলু উপজাতি হামলা চালায় ও নানান জিনিস লুট করে আনা হয়।
কিন্তু এর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। এই কারণে হিন্দুরা নানান প্রতিবেশি অঞ্চল মিলে নিজেদের রক্ষা করার জন্য নিজেদের মধ্যেই সেনাবাহিনী গড়ে তোলে।
জানা যায়, ১৯৭২ সালে ইদি আমিন উগান্ডা ও কেনিয়া থেকে সমস্ত ভারতীয়দের বের করে দেন। এই সমস্ত ভারতীয়রা এরপর ঘাঁটি গড়ে ব্রিটেনে। ২৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয়রা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যাযাবরের মতো গিয়ে পৌঁছয় ব্রিটেনে। সম্প্রতিকালের ভারতীয়দের উপর জুলু উপজাতির এই হামলার ভিডিও দেখার পর ব্রিটিশ ভারতীয়রা তাদের সাহায্য করতে চেয়েছেন। ৫০ বছর আগে সেই ভারতীয়দের উপর কী অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছিল, তা ভেবেই গা শিউড়ে ওঠে তাদের।





