তিনি নিজেই নাকি বলেছিলেন যে কাজ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তেই উল্টো সুর ধরেন তিনি। চড়াও হন আধার ও রেশন কার্ড সংযুক্তিকরণের কাজে নিযুক্ত যুবকদের উপর।
এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগর কল্যাণগড়ের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে। জানা গিয়েছে, কয়েকজন যুবক ওই ক্যাম্পে আধার ও রেশন কার্ডের সংযুক্তিকরণের কাজ করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় ওই ঘর থেকে স্ট্যান্ড পাখা সরিয়ে আনা হয়। গরমে কাজ করতে তাদের অসুবিধা হচ্ছিল। এই বিষয়ে প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য অনুপ রায়কে জানানো হয়। তিনি তখন নাকি যুবকদের বলেন কাজ বন্ধ রাখার জন্য।
আরও পড়ুন- আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট সিপিএমের দ্বিতীয় ঐতিহাসিক ভুল! জোট ভাঙার ঘোষণা বামেদের
কিন্তু এদিকে কাজ বন্ধ থাকার জেরে সাধারণ মানুষের ভিড় ক্রমশই বাড়তে থাকে। কাজ বন্ধ থাকায় লোকজন অনুপ রায়ের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন। তখন নাকি অনুপ রায় আধার ও রেশন কার্ড সংযুক্তিকরণের যুবকদের উপর চড়াও হন। যুবকদের কলার ধরে ধাক্কা দেওয়া হয়। এর জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
এই ঘটনার পর যুবকরা কাজ বন্ধ করে দেন। অশোকনগর পৌরসভার নবনিযুক্ত মুখ্য পৌর প্রশাসক উৎপল তালুকদারকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়। তবে অনুপ রায় এই ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
তাঁর দাবী, “দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা দেওয়া হয়, সেখানে ওই সংস্থার যুবকরা কাজে অসহযোগিতা করেছিলেন। আমি কাজকে সচল রাখার জন্য গিয়েছিলাম। বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছিলাম। এর বাইরে কোনও ঘটনা ঘটেনি”
তিনি আরও বলেন, “ইলেক্ট্রিশিয়ান আমাদের জানিয়েছিলেন, ফ্যান আসলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই সেটা সরিয়ে অন্য ফ্যান আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। কিন্তু ওরা ওইটুকু ধৈর্য্য ধরেনি। কাজ বন্ধ করে পা গুটিয়ে বসেছিল। আর এদিকে ভিড় বাড়ছিল। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছিলেন। আমি গিয়ে বলাতে অশান্তি বাঁধে”।
এদিকে অভিযোগকারীর বক্তব্য, “অনুপবাবু ফ্যানটা নিয়ে যান। গরমে কষ্ট পাচ্ছিলাম। ওঁ বলেছিলেন আধ ঘণ্টা পর ফ্যান দিয়ে যাবো। কিন্তু দিয়ে যাননি। আমরা যাওয়ার পর ওঁ বলেছিলেন, কাজ বন্ধ করে দাও”। এর জেরে ক্যাম্পে কাজ স্থগিত থাকে। আর এই কারণে সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
আরও পড়ুন- সহপাঠিনীকে ধর্ষণ আইআইটি পড়ুয়ার, অদ্ভুত যুক্তি দেখিয়ে ‘রাজ্যের ভবিষ্যৎ’-এর জামিন মঞ্জুর করল আদালত
এই ঘটনায় ওই যুবকরা দোষ চাপান অনুপের ওপর, কিন্তু অনুপ তা অস্বীকার করেন। এই ঝামেলায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গোটা এই বিষয়টি জানানো হয় পৌর প্রশাসককে। তিনি দু’পক্ষরই বক্তব্য শুনেছেন বলে খবর। তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন যে বিষয়টি খতিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধান করবেন।





