বিমানে করে আফগানিস্তানের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে গেল আইএসআই, তবে কী আফগান সরকার পরিচালনা করতে চাইছে পাকিস্তান?

নতুন তালিব সরকারকে আর্থিক সাহায্য করেছে পাকিস্তান। আর এর বদলে কী সে দেশের দায়িত্ব পাক সরকারের হাতেই তুলে দিতে চাইছে তালিবরা। সূত্রের খবর অনুযায়ী আফগানিস্তানের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে আইএসআই। তিনটি বিমানে করে আফগানিস্তানের নানান গোপন তথ্য ইসলামাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।

আফগানিস্তানে যে আর্থিক সঙ্কট দেখা দেয়, তা ইতিমধ্যেই দূর করতে অর্থ সাহায্যের ঘোষণা করেছে তাদের ‘বন্ধু’ দেশ চীন ও পাকিস্তান। তবে এই প্রতিদান হিসেবে আফগানিস্তানের জরুরী তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান থেকে যে সি-১৭০ বিমানগুলি গিয়েছিল, সেই বিমানে করেই আফগানিস্তানের আগের সরকারের নানান তথ্য হাতিয়ে নিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান।

প্রাক্তন আফগান সরকারের নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত এক ব্যক্তি এই বিষয়ে বলেন যে আইএসআই আফগানিস্তান সরকারের বিভিন্ন গোপন নথি নিয়ে গিয়েছে। এনডিএস গোপন নথি, হার্ড ডিস্ক-সহ নানান ডিজিটাল রেকর্ড নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইসলামাবাদে। এও জানা গিয়েছে যে এরমধ্যে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক তথ্য রয়েছে।

ওই সূত্রের দাবী অনুযায়ী, এই সমস্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানের আইএসআই বাহিনী নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। তা যদি হয় তাহলে তা যা গোটা বিশ্বের কাছে আশঙ্কাজনক। এর জেরে নানান দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামীদিনেও যে তালিবান সরকার যে পাকিস্তানের উপরই নির্ভর করবে, এর যথেষ্ট প্রমাণও মিলছে ইতিমধ্যেই।

আফগানভূমে ক্ষমতা দখলের পরই তালিবান পূর্ববর্তী আফগানিস্তান সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব দেয়। তবে আধিকারিকরা তা পূরণ করেনি। তালিবানের তরফে সরকারি আধিকারিকদের কাজে ফিরতে ও গোপন তথ্যগুলি নতুন তালিব সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ কর্মচারীই কাজে ফেরেননি। এই কারণেই গোপন তথ্যগুলিও নিজেদের দখলে করতে পারেনি তালিবান সরকার। এ বার সেই তথ্যগুলিই পাকিস্তান হাতিয়ে নিয়ে গেল।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মনসুর আহমেদের নির্দেশেই আফগানিস্তানে এই তথ্য হস্তান্তরের কাজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আফগান সরকারকে চালনা করতেই এই তথ্য হাতিয়েছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানী মুদ্রাতেই বাণিজ্যিক আদান-প্রদান শুরু হয়ে গিয়েছে। এই লেনদেন আগে চলত মার্কিন ডলারে।

RELATED Articles